জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর একাধিক সদস্যসহ ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন হোসেনের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের দাবি ছিল, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়ন। তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালান। এতে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ রক্তাক্ত হন। আহত হন ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর একাধিক সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন। সংঘর্ষের পর ছাত্রশিবির ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, সরকার বরাদ্দ দেওয়া ২০ কোটি টাকা দিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ল্যাব টেকনিশিয়ান ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর ভিপি রিয়াজুর ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিনিধি মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
জকসুর নেতাদের অভিযোগ, ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরতেই তারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জকসুর ব্যর্থতা ও সারা বাংলাদেশের জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব করছে। আমরা যখন দেখি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তারা মব করার চেষ্টা করছে, একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা মব করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা ছাত্রলীগের লুঙ্গি নেওয়ার মতো করে মব কালচার করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের। আবাসনের অধিকারকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই প্রতিরোধ করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জুলাইয়ের একটি প্রোগ্রাম চলছিল, এমন সময় বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা ধারণা করছি, জুলাই বিরোধী শক্তি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এতে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা আমরা খতিয়ে দেখবো।
জেআই
