জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জকসু প্রতিনিধি, ছাত্রশিবির, ছাত্র-শক্তি, ইনকিলাব মঞ্চ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ডাকসু অভিযোগ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, অস্থায়ী আবাসন ও চিকিৎসাসেবাসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিরা বাধার মুখে পড়েন। এ সময় পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, ধাক্কাধাক্কি, শারীরিক হামলা এবং সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে মেডিকেল সেন্টার ও হাসপাতাল এলাকাতেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডাকসু জানায়, জকসু প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক ও দায়িত্ব পালনরত একাধিক সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে শাহবাগ থানার ভেতরে শিক্ষার্থী, ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মীর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সে ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি বলে দাবি করে ডাকসু। তাদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সহিংসতার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে।
ডাকসু বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, যুক্তি উপস্থাপন ও ন্যায্য দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র। সেখানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা, ভিন্নমত দমন, সহিংসতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত ও গণতান্ত্রিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু।
এমএল/এমএন
