ঢাকা কলেজে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অনেক কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন।
হামলা–পাল্টা হামলার অভিযোগের মধ্যেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন বলেছেন, ‘এই ক্যাম্পাসে শিবিরকে রাজনীতি করতে দেব না।’
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে কলেজের গ্যালারি–২-এ আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল ছাত্রশিবির। কর্মসূচির প্রস্তুতির সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী এসে বাধা দেন এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান ও সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলে ঢাকা কলেজের মূল ফটক ও নায়েমের গলিতে শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান করছেন। এ সময় সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। অন্যদিকে কলেজের বিপরীতে মেঘনা ফিলিং স্টেশনের সামনে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেলেও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সরিয়ে দিতে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন বলেন, হামলায় আমাদের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পাঁচজন নেতাকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, পুরান ঢাকা ও কামরাঙ্গীরচর থেকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক অস্ত্রধারী নেতাকর্মীকে জড়ো করা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন বলেন, ‘শিবির সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা অবস্থান নিয়েছি। এ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসীদের কোনো কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। শিবিরকে কোনোভাবেই এ ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে দেব না।
এর আগে একই ঘটনায় ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক আহত হন। ছাত্রশিবিরের দাবি, কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, সকাল থেকে কলেজে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল। ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে আমার কাছে সংঘর্ষের কোনো তথ্য নেই।
এ বিষয়ে জানতে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
আরএইচটি/এমএন
