জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতির সাম্প্রতিক বিবৃতিকে ‘কলঙ্কিত বিবৃতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এবং শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে কোনো নিন্দা না জানানোয় তিনি প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক বিলাল লেখেন, এটা একটা কলঙ্কিত বিবৃতি হয়ে থাকবে।

তিনি আরও লেখেন, শিক্ষক সমিতি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পারপাস সার্ভ করার জন্য গঠিত হয়নি। যে বিবৃতিতে ন্যূনতম ন্যায়বোধের প্রতিফলন নেই, সেটি নিয়ে দুঃখবোধ ছাড়া আর কিছুই থাকার কথা নয়।
নিজের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করে পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, দুঃখিত, এই শিক্ষক সমিতির আমি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে একই দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্যাডে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে সংঘটিত ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এবং দুইটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জকসুর ভিপি, সাধারণ সম্পাদক ও কয়েকজন শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ক্যাম্পাস–সংক্রান্ত প্ল্যাকার্ড নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে প্রক্টরিয়াল টিম তাদের নিবৃত করতে যায়। পরে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে জকসু নেতাদের এবং পরে শিবিরের নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
শিক্ষক সমিতির দাবি, উপাচার্য, শিক্ষক সমিতির নেতারা, প্রক্টরিয়াল বডি ও অন্যান্য শিক্ষক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দৃশ্যত মনে হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
তবে শিক্ষক সমিতির ওই বিবৃতির পরপরই এর সমালোচনা করেন অধ্যাপক বিলাল হোসাইন। তার মতে, শিক্ষক সমিতির মতো একটি সংগঠনের বিবৃতিতে ন্যায়বোধ, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার প্রতিফলন থাকা উচিত। বর্তমান বিবৃতি সেই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়নি বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ইনস্টিটিউটে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে আসলে তাকে ছাত্রদল অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তিনি হাসপাতালের কিচেনে অবস্থান নেন।
এমএল/এসএএস
