ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নিরাপত্তা কর্মীদের টহল জোরদার এবং প্রবেশপথে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও উন্মুক্ত লাইব্রেরিও বন্ধ রয়েছে।
এতে প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণাসামগ্রী ব্যবহার করতে না পেরে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। উন্মুক্ত লাইব্রেরি বন্ধ থাকায় পড়াশোনা করতে পারিনি। আগামীকাল কী হবে, সেটাও জানি না।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ বলেন, সরকারি ছুটির দিনেও সাধারণত উন্মুক্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। আজ সেটিও বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা সেখানে পড়াশোনা করতে যাই, মারামারি করতে নয়। প্রশাসন চাইলে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে লাইব্রেরি খোলা রাখতে পারত। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকাই স্বাভাবিক। একই কারণে কেন্দ্রীয় ও উন্মুক্ত দুই লাইব্রেরিই বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ সরকারি ছুটি, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তাই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকাই স্বাভাবিক। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
লাইব্রেরি বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি ছুটির কারণে কেন্দ্রীয় ও উন্মুক্ত লাইব্রেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। আগেও সরকারি ছুটির দিনে এভাবেই বন্ধ ছিল।
এদিকে কড়া নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাস বন্ধের মধ্যেই ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটির দাবি, ছাত্রশক্তি, জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রফ্রন্ট, ইনকিলাব মঞ্চ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রশক্তির ঘোষিত কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, আজ ক্যাম্পাস বন্ধ। আমি ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছি। ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছি। প্রশাসন বাধা দিলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কর্মসূচি পালন করব।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে দুই পক্ষ।
সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক শেষে উপাচার্য জানান, ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং একই ব্যবস্থা ৬ আগস্টও কার্যকর থাকবে।
তিনি বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
/এমএসএ
