ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ইতোমধ্যে ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন রূপে বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই দেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন রূপে বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই দেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, সেই ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে এবং রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হলে দেশে আবারও ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যারা জীবন দিয়েছেন, জাতি তাদের অবদান কখনো ভুলবে না। পাশাপাশি তিনি আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সহজ ছিল না। জীবনকে তুচ্ছ করে যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৯৭১ সালের পর বিভাজনের রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি হয়েছে। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য ছিল না। সেই ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে আবারও ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে আনন্দের প্রতীক হিসেবে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
পরে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী, কারাবরণকারী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মাওয়াজুর রহমান/এমএমবি
