বিজ্ঞাপন

ঢাবি আইএমএল পরিচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

ঢাবি আইএমএল পরিচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালের বিরুদ্ধে এক ভাষাবিদ ও শিক্ষকের চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিয়োগের মেয়াদ নবায়নে প্রশাসনিক হয়রানি ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে ওই শিক্ষক দাবি করেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিলেও দীর্ঘদিন তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের হস্তক্ষেপে আবেদনটি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। তবে এক বছরের পরিবর্তে তাকে মাত্র ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত মে মাসে তিনি যথাসময়ে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং বিভিন্ন মহলের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ওই শিক্ষক অভিযোগ করেন, তার আন্তর্জাতিক মানের পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে অন্য এক শিক্ষকের পাঠদানের ধরন মিল নেই- এমন মন্তব্য করে তার পেশাগত সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ২৫ বছরে যুক্তরাজ্য, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড, কিংস কলেজ লন্ডন এবং সোয়াসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা ও ভাষা অর্জনবিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন এবং প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের জন্য একাধিকবার আইএমএল পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজে এবং তার শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। উপাচার্য আবেদনগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে আইএমএলে পাঠালেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই শিক্ষক দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক পদে আবেদন করার সময় যে স্বার্থান্বেষী চক্র তার বিরোধিতা করেছিল, একই গোষ্ঠী এখন আইএমএলেও তার বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে।

নিজেকে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত পক্ষপাতের কারণে তাকে বারবার পেশাগতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যোগ্য শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমএল পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল বলেন, আমাদের ইতোমধ্যে একজন অনারারি অধ্যাপক আছেন। বর্তমানে কোনো শিক্ষক প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ওনার যোগ্যতা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। তবে তিনি আগে ফারসি বিভাগে ছিলেন। আমাদের কোর্সগুলো খুবই বেসিক, সে হিসেবে তাকে ওভারকোয়ালিফায়েড মনে হয়েছে। এছাড়া ওনার সিলেবাস অনুসরণ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। এই মুহূর্তে আমাদের শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। পরবর্তীতে যদি প্রয়োজন মনে করি তাহলে দেখব আমরা।

বিআরই