বিজ্ঞাপন

সহপাঠীর ওপর হামলার বিচার চেয়ে জবিতে বিক্ষোভ

সহপাঠীর ওপর হামলার বিচার চেয়ে জবিতে বিক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়ামত উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সহপাঠীরা। এসময় নিয়ামত উল্লাহর ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিও জানানা তারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ থাকার কথা জানিয়ে কর্মসূচিতে কর্তৃপক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। 

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর নিয়ামত’ ও ‘নিয়ামতের ওপর হামলার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে প্রক্টরিয়াল বডির বাধাদানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সহপাঠীর সাতটি দাঁত ও চোয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার এত দিন পরও প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান জবাব দিতে পারেনি। বিচার না পেয়ে আমরা কীভাবে চুপ থাকব?

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ এবং ‘ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলে, প্রশাসন কী করে?’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

নিয়ামত উল্লাহর সহপাঠীদের অভিযোগ, ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাবও পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় ভিডিও ধারণ করছিলেন গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিয়ামত উল্লাহ শোয়াইব। এ সময় তার ওপর হামলা করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ ওঠে।

হামলায় নিয়ামতের চোয়াল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার সাতটি দাঁত স্থানচ্যুত হয়। পরে অস্ত্রোপচার করে তার চোয়ালের ভেতরে স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর পর দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে প্লেটটি অপসারণ করা হবে। এ সময় তিনি শক্ত খাবার খেতে পারবেন না। মুখে তীব্র ব্যথা থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কথা বলতে পারছেন না। কাগজে লিখে নিজের অনুভূতি ও কষ্টের কথা প্রকাশ করছেন।

বিক্ষোভ চলাকালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি বন্ধ করার অভিযোগ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নঈম আখতার সিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে গত ৪ আগস্ট থেকেই ক্যাম্পাসে মিছিল, মিটিং ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর অভিযোগ থাকলে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা বা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে লিখিতভাবে প্রক্টর অফিসে জানানো যেতে পারে।

নঈম আখতার সিদ্দিকী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। পরিবেশ শান্ত রাখতে অন্য কয়েকটি সংগঠনের কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে। ৪ আগস্টের ঘটনার তদন্তে এরইমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেডএস

বিজ্ঞাপন