জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বখতিয়ার ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল নোমানের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে উপাচার্যের বরাবর চার দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনে মিলিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলে, প্রশাসন কী করে, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা কোনোভাবে কাম্য নয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ আগস্টের ছাত্রদলের হামলায় আহত দুই শিক্ষার্থীর ওপর শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাই।
হামলার শিকার আহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বখতিয়ার ইসলাম বলেন, যখন আমাদের ওপর হামলা হচ্ছিল, তখন আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। আমাকে দেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাফর আহমেদ বাঁশ নিয়ে তেড়ে আসেন এবং আমার ওপর হামলা চালান। ওই হামলার কারণেই আমি কিডনিতে গুরুতর আঘাত পাই। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন জবি ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ইমেল। ওই হামলায় নোমানও গুরুতর আহত হন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে তাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে না, ছাত্রদলের এসব দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান অবিচল থাকবে। ৪ আগস্টের ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজসহ সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার বিচার ও জবাবদিহির দাবি অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে ৪ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো— সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হবে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রক্টর মহোদয়কে পদত্যাগ করতে হবে, সাম্প্রতিক ঘটনায় আহত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ চিকিৎসার সার্বিক ব্যয়ভার বহন এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নাসির উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মানববন্ধন করেছে এবং পরে প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেছে। তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আয়োজিত ইউজিসির চেয়ারম্যানের সামনে ইনকিলাব মঞ্চ, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্রফ্রন্ট ও জকসুর নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বাধার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান উদ্দিন ও মোহাম্মদ বখতিয়ার ইসলাম গুরুতর আহত হন।
আহত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান উদ্দিন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এবং মোহাম্মদ বখতিয়ার ইসলাম একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের।
এমএল/এমএন
