বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীর অদম্য প্রয়াস

ইবি প্রাঙ্গণে হাজারো ‘রক্তকাঞ্চনের বিপ্লব’

ইবি প্রাঙ্গণে হাজারো ‘রক্তকাঞ্চনের বিপ্লব’

সবুজ ও নান্দনিক ক্যাম্পাস গড়ার তাগিদ থেকে সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় এক হাজারের বেশি রক্তকাঞ্চন ফুলের চারা রোপণ করে প্রশংসায় ভাসছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী মানিক রহমান।

ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কুড়িয়ে পাওয়া ৪ হাজার বীজ থেকে নিবিড় পরিচর্যায় চারা তৈরি করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রোপণ ও বিতরণ করা তার এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ইতোমধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও সাড়া ফেলেছে।

প্রকৃতির টানে মানিক রহমানের ‘রক্তকাঞ্চনের বিপ্লব’

দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে নিজ হাতে গাছ লাগানোর স্বপ্ন দেখতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মানিক রহমান। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন নার্সারিতে গিয়ে রক্তকাঞ্চনের চারা না পাওয়া এবং চড়া দামের কারণে উদ্যোগটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে দমে না গিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আনাস হলের সামনের একটি রক্তকাঞ্চন গাছ থেকে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় ৪ হাজার পরিপক্ক বীজ সংগ্রহ করেন তিনি।

পরে শাহ আজিজুর রহমান হলের একটি পরিত্যক্ত জমি পরিষ্কার করে পাঁচটি ধাপে বীজতলা তৈরি করেন। দীর্ঘ পাঁচ মাসের নিবিড় পরিচর্যায় সেখান থেকে প্রায় তিন হাজার চারা উৎপাদিত হয়। এই চারাগুলোর মধ্যে এক হাজারের বেশি চারা তিনি নিজে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোপণ করেছেন। বাকি চারা ও বীজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠন ও সতীর্থদের মাঝে উপহার হিসেবে বিতরণ করেছেন। 

পরিবেশ রক্ষার এই কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করে শিক্ষার্থী মানিক রহমান বলেন, কিছু মানুষ না বুঝে চারাগুলোর পাতা ছিঁড়ে ফেলছেন, ডাল ভেঙে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ মাস পরিশ্রমের পর গাছগুলো রোপণের উপযুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় হাজারের ওপর গাছ রোপণ করেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গাছ উপহার দিয়েছি। প্রথম দিকে অনেক চিন্তায় ছিলাম কীভাবে কাজটা সম্পন্ন করবো। পরবর্তীতে শিক্ষক ও সহপাঠী বন্ধুরা আমার পাশে থাকায় তা সহজ হয়েছে। গাছগুলোতে যখন ফুল ফুটবে এবং ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, তখন আমার পরিশ্রম সার্থকতা পাবে।

মানিকের এ উদ্যোগে পাশে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর বলেন, অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন। গাছগুলো বড় হলে পুরো ক্যাম্পাসের চিত্র পরিবর্তন হয়ে যাবে। মানিক ভাইয়ের সঙ্গে চারাগাছ রোপণে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত।

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়াই একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এত বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সত্যিই সাহসিকতার কাজ। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনে এটি দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা বলেন, মানিকের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একজন শিক্ষার্থীর এমন পরিবেশবাদী মানসিকতা পুরো ক্যাম্পাসের জন্য অনুপ্রেরণা। এই ক্যাম্পাস আমাদের একটি পরিবারের মতো; তাই মানিক যেভাবে নিজের তাগিদে গাছ লাগিয়ে ক্যাম্পাসকে সুন্দর করে তুলছে এবং ভবিষ্যতে উত্তরসূরিদের জন্য এটি অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রাখছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। 

তিনি বলেন, এক হাজার ফুলগাছ বড় হয়ে যখন পূর্ণতা পাবে, তখন তা পুরো ক্যাম্পাসকে আরও সুশোভিত ও আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় পাওয়া ও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মাওয়াজুর রহমান/এমএসএ