বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিষিদ্ধের পরও বেরোবিতে রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

রাজনীতি নিষিদ্ধের পরও বেরোবিতে রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্তের কোনো তোয়াক্কাই করছে না প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকাশ্য সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গত ৩ আগস্ট (সোমবার) রাতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে একটি ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতরুপ পাঁচজনসহ আরও অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ছাড়া পরদিন মঙ্গলবার ছাত্রদল-যুবদলের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশঙ্কা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদন‌ও জানিয়েছিল। শহীদ আবু সাঈদের রক্তে ভেজা ও রাজনীতি নিষিদ্ধ এই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে পড়াশোনার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে। তেমনি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও তারা চিন্তিত। আর এ ধরনের রাজনৈতিক প্রোগ্রামে উপাচার্যের উপস্থিতি ও বক্তব্য প্রদান করার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি ও বাহবা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।  তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোকছেদুল মোমিন বলেন, ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ যেখানে শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস লাইফ লিডে কাজ করা সেখানে আমরা দেখছি সহিংসতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জীবনকে ভীতিকর পরিস্থিতিতে ফেলানো হচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি নির্বাচনের মাধ্যমে কল্যানমূলক সংসদীয় রাজনীতি করেন যেখানে ক্যাম্পাসের ভেতরে মিছিল-মিটিং, জোরপূর্বক দলে নেওয়া এবং পোস্টার টানানোর মতো প্রচলিত রাজনীতি থাকবে না, কিন্তু রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে তাদের কাছ থেকে এই সহিংসতামূলক আচরণ আমাদেরকে চরম ভীতিকর এবং অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি করছে। এর দায় সেইসব দল এবং প্রশাসন উভয়কেই সমানভাবে নিতে হবে। আমরা তো এমনটা চাইনি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, অস্ত্র প্রদর্শন ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা কোনো রাজনৈতিক সংঘাত চাই না, আমরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে যারা ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।

শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, শিক্ষার্থীদের গণরায়ের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল সিন্ডিকেট, কিন্তু তারা সেই আইনের বাস্তবায়ন করতে ব্যার্থ হয়েছে। ফলতঃ শিক্ষার্থীরা পূণরায়  ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখলো, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত।

এ বিষয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট অনুযায়ী সকল প্রকার লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিপরীতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর ছাত্র রাজনীতি চালুর বিষয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি চালু থাকবে কি থাকবে না এই বিষয় নিয়ে প্রশাসন একটা কমিটি করে দিয়েছে। সেই কমিটি প্রশাসন বরাবর রিপোর্ট জমা দিলেই আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো। তবে সাম্প্রতিক যে ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ঘটেছে সেটা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। 

রিপন শাহরিয়ার/এএমকে