বিজ্ঞাপন

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ এনটিআরসিএর হাতেই রাখার দাবি

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ এনটিআরসিএর হাতেই রাখার দাবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কাছ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কাছে যেন হস্তান্তর না করা হয় সে দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। দ্রুত ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। 

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়। বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র সংকট ও চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বেকারদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সরকারি ও বেসরকারি সকল পরীক্ষায় ডিভাইসধারী, অসাধু চক্র দমনে কার্যকর ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিতেরও দাবি জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং মন্ত্রণালয় থেকে গেজেটও প্রকাশিত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু আমলা বা ষড়যন্ত্রকারী মহল সরকারকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে। গত তিন বছর ধরে এনটিআরসিএ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাই আমরা অতিসত্বর ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—  এনটিআরসিএ নিয়োগ কোনোভাবেই ম্যানেজিং কমিটির হাতে হস্তান্তর করা যাবে না। অনাগত দিনে এমন জনবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে হবে, চাকরি প্রত্যাশী বেকার শিক্ষার্থীদের বাস্তবিক দিক বিবেচনা করে গত ৩ বছর ধরে ঝুলে থাকা ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার অনতিবিলম্বে প্রদান করতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি সকল পরীক্ষায় ডিভাইসধারী, অসাধু চক্র দমনে কার্যকর ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনে চাকরি প্রত্যাশী ও বাংলা বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না বলেন, আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গতকাল শিক্ষামন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছেন, তিনি জানিয়েছেন এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই আমরা সরকারকে বলবো এনটিআরসিএ’র নিয়োগ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া যাবে না।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, এনটিআরসিএ হলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাকরির নিরাপত্তা বা নিশ্চয়তার একটি বড় জায়গা। কিন্তু অসাধু চক্র ডিভাইস ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে চাকরি নিয়ে যাচ্ছে, যা বন্ধ করতে হবে, অসাধু চক্রের হাত থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে রাজপথে ২৪-এর মতো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এনএফ