বিজ্ঞাপন

শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে মানববন্ধনে মিলিত হয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভ মিছিলে ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার,’ ‘কমিটি না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ইবিয়ানরা জেগেছে’, লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির হাতে দেওয়া হলে মেধার চরম অবমূল্যায়ন হবে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ঘুষ ও জালিয়াতির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ'র হাতে দিতে হবে। এনটিআরসিএকে আরও কার্যকারী ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের সংকট আছে। কিন্তু সরকারের এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বর্তমান সরকারি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের ভুলের মাশুল দিতে হবে।

শাখা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম রাফি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও স্থায়ী আইন করে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে ম্যানেজিং কমিটির অধীনে থাকা প্রধান শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল নিয়োগে চরম হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে। এনটিআরসিএর হাত থেকে এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরামর্শদাতারা সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী নয়। তাই দুর্নীতি ও ঘুষমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং সরকারের যেকোনো অন্যায় রোধ করতে ছাত্র সমাজকে সর্বদা সচেতন ও মনিটরিং করার আহ্বান করছি।

শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, এনটিআরসির শিক্ষক নিয়োগের নতুন পদ্ধতি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল না করা হলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, গত দুই বছরের হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে অভিযুক্ত হাসিনাকে শেল্টার দেওয়ার বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রেস রিলিজের শক্ত জবাব মাঠে দেখতে হবে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর প্রধানের বাংলাদেশে অবস্থান এবং শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার সাথে এর যোগসূত্র নিয়ে বর্তমান সরকারের স্পষ্ট জবাবদিহিতা করতে হবে। অতীতে জনগণের সাথে প্রহসন করে স্বৈরাচারী হাসিনার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারেনি। বর্তমান সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল যদি জনগণকে বাদ দিয়ে ভারতের সাথে গোপন সমঝোতা করার চেষ্টা করে, তবে তাদের অবস্থাও হাসিনার মতোই হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আব্দুল্লাহ আল রাহাতের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, শাখা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম রাফি, শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিদ হাসান, শাখা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান, শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, শাখা জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীমসহ বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশপর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে আর সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে। গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরকে