ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
এ সময় ঢাবি শিবির সভাপতি মুহা. মুহিউদ্দিন খান বলেন, আমরা ক্যাম্পাসগুলোতে ৯০-এর হাওয়ার পূর্বাভাস লক্ষ্য করছি। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারগুলো ডাকসুকে বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারা করেছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিবিরের একটি প্রতিনিধি দল। সাক্ষাৎ শেষে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মুহিউদ্দিন খান।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া একটি স্বাভাবিক ও চিরাচরিত প্রক্রিয়া। বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও পরবর্তী নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
মুহিউদ্দিনের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার তাদের জানিয়েছেন যে ডাকসু নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে ইউজিসিতে বাজেট বরাদ্দের জন্য চিঠিও পাঠানো যায়নি। তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই ডাকসুর বাজেট নিয়ে কথা বলে আসছি। কিন্তু প্রশাসন এখনো কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি- না বাজেটের বিষয়ে, না প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন ডাকসুকে বন্ধ রাখার পুরোনো ধাঁচের পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার। আমরা সেই অধিকার বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।
ব্রিফিংয়ে শাহবাগ থানায় হামলার ঘটনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত হামলার বিষয়ও তুলে ধরেন শিবির সভাপতি। তিনি দাবি করেন, শহীদুল্লাহ হলসহ বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়ায় মব তৈরির সংস্কৃতি উৎসাহিত হয়েছে।
মুহিউদ্দিন বলেন, প্রশাসন তাদের জানিয়েছে যে আগামী রোববার ও সোমবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ না হলে শিবির প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের জন্য আলাদা ফান্ড ও বাজেট না থাকলে প্রশ্ন ওঠে, প্রশাসন কি ডাকসুকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে?
শিবির সভাপতি দাবি করেন, ডাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক রোডম্যাপ দ্রুত শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি শাহবাগ থানায় হামলা এবং সাংবাদিক ও নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
এমওএইচ/বিআরইউ
