বিজ্ঞাপন

ডাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে ঢাবি উপাচার্যের কাছে শিবিরের স্মারকলিপি

ডাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে ঢাবি উপাচার্যের কাছে শিবিরের স্মারকলিপি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল অবিলম্বে ঘোষণার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপাচার্য কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মুহিউদ্দিন খান-এর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ডাকসুর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খানসহ শিবিরের অন্যান্য নেতারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ ও নেতৃত্ব বিকাশের একটি অপরিহার্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। এটি শুধু ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র নয়; বরং শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সার্বিক কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শিবিরের দাবি, ২০২৫ সালে ডাকসু পুনর্গঠনের পর গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক সেমিনার, আন্তর্জাতিক জার্নাল ও ই-রিসোর্সে প্রবেশাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, মেডিকেল সেবার সম্প্রসারণ, হলের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব উদ্যোগ একটি সক্রিয় ডাকসুর ইতিবাচক প্রভাবের উদাহরণ বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়

১. অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। ২. ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। ৩. ভবিষ্যতে ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত করার লক্ষ্যে একটি স্থায়ী নির্বাচন-রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। ৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি মুহা. মুহিউদ্দিন খান বলেন, ডাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বাভাবিক ও চিরাচরিত প্রক্রিয়া। বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও প্রশাসন এখনো পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে কোনো রোডম্যাপ দেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা জানতে চেয়েছি ডাকসু কবে হবে, কীভাবে হবে এবং বাজেট কোথায়? কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তিগুলো শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করতে ডাকসুকে অকার্যকর রাখার চেষ্টা করেছে। মুহিউদ্দিন বলেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এটি দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে ফেলে রাখা যাবে না। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের স্পষ্ট সময়সূচি ও রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।

এজেডআর/বিআরইউ