বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস লিস্টইয়োওয়াতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শিক্ষা, গবেষণা, বৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ঢাকাস্থ ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি মি. সাহিদ নূরকরি এবং মিনিস্টার কাউন্সিলর মি. আহমদ সাইফুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ঢাবিতে আরও বেশি সংখ্যক ইন্দোনেশীয় শিক্ষার্থী ভর্তি এবং তাদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে ঢাবির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ তৈরির ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ঢাবিতে একটি ‘ইন্দোনেশিয়ান কর্নার’ স্থাপনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে ঢাবি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ সম্মেলন, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালা আয়োজনের বিষয়েও উভয় পক্ষ ইতিবাচক মত প্রকাশ করে।
আলোচনার এক পর্যায়ে ঢাবি ও ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে শিগ্গিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাবির আন্তর্জাতিকীকরণ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সমাজের কল্যাণে ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে ঢাবি আগ্রহী। তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে যৌথ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসভিত্তিক অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এজেডআর/আরএফ
