বিজ্ঞাপন

সাদিক কায়েম

গত ১১ মাসে যে কাজ করেছি, ঢাবির ১০৫ বছরের ইতিহাসে কেউ করতে পারেনি

গত ১১ মাসে যে কাজ করেছি, ঢাবির ১০৫ বছরের ইতিহাসে কেউ করতে পারেনি

আমরা গত ১১ মাসে যে কাজ করেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০৫ বছরের ইতিহাসে এ কাজ কেউ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ঢাবির জুলাই শহীদ স্মৃতি অডিটোরিয়াম, মুজিব হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বি-উপনিবেশায়ন : আবদুল মালেকের শিক্ষা-প্রস্তাবনা ও বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাদিক কায়েম এ কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১১ মাস ধরে কাজ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শত শত অসহযোগিতা পেয়েছি। প্রত্যেকটা জায়গায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আমাদের অসহযোগিতা করা হয়েছে। তারপরও ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসের মধ্যে পড়াশোনার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। 

ডাকসুর দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক জরিপ পরিচালনার কথা জানান ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, এসব জরিপে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে। তার দাবি, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসে সহিংসতার মাত্রা প্রায় শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে।

সাদিক কায়েম বলেন, যে আমার সমালোচনা করেছে, আমি তারও অধিকার নিশ্চিত করেছি। আবার যে আমার সমর্থক, তারও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তার ভাষ্য, ডাকসুর নেতৃত্ব কোনো পক্ষের ওপর শক্তিমত্তা প্রদর্শনের পরিবর্তে সব শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।

সেমিনারে আবদুল মালেকের শাহাদাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, তার শিক্ষা-ভাবনার বিরোধিতা থেকেই একটি সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট টিএসসি থেকে ফজলুল হক মুসলিম হলের দিকে যাওয়ার পথে আবদুল মালেকের ওপর হামলা হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিন দিন পর ১৫ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, এ ক্যাম্পাসের প্রথম ছাত্রহত্যা শহীদ আবদুল মালেকের শাহাদাতের মাধ্যমে হয়েছে। আবদুল মালেকের শিক্ষা-ভাবনাকে বর্তমান সময়ের শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, নতুন শিক্ষা কাঠামোতে আধুনিকতা ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বাস সার্ভিস চালু, আবাসন সংকট নিরসনে ২৮৪১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প, ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে দুই কোটি টাকার একটি ফান্ড ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি জিমনেশিয়াম তৈরির উদ্যোগের কথা জানান। 

নিজেদের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে ডাকসু ভিপি বলেন, নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুধু অভিযোগ না করে বাস্তব কাজের মাধ্যমে পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করতে চেয়েছে বর্তমান ডাকসু। আমরা শুধু অভিযোগ দিইনি, আমরা নিজেরা প্রমাণ করে দেখিয়েছি, কীভাবে করতে হয়।

সেমিনারের বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ডাকসু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু আমরা কথা দিয়ে কথা রেখেছি। শহীদ আবদুল মালেকের শিক্ষা-ভাবনাকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন ডাকসু ভিপি। তার ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষা, গবেষণা, চিন্তা ও জ্ঞান উৎপাদন; পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

এজেডআর/আরএফ