জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত ৪ আগস্ট ছাত্রদল ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক থেকে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে অফিসিয়াল প্যাডে সাংবাদিকদের ওই বৈঠকে সংবাদ ও চিত্রগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণ পেয়েও বৈঠকে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসের কনফারেন্স রুমে এ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানস্থল কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উপাচার্যের অফিস কনফারেন্স রুমে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুরান ঢাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
আমন্ত্রণপত্রে সভার সংবাদ ও চিত্রগ্রহণ এবং ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে একজন রিপোর্টার ও একজন ক্যামেরাপার্সন পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ে সাংবাদিকরা উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে উপস্থিত হলে তাদের বৈঠক থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। পরে বৈঠকটি ‘ক্লোজড ডোর মিটিং’ হওয়ায় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও দ্য ডেইলি স্টারের জবি প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘পূর্বঘোষিত বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে অফিসিয়াল প্যাডে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে আমরা সাংবাদিকরা গিয়ে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে উপস্থিত হলে সেখান থেকে সবাইকে বের করে দেওয়া হয়। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতা ও অপমানজনক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে বৈঠক থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জবি প্রেসক্লাবের দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রোকুনুজ্জামান গোলাম রাব্বী।
তিনি বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের মাধ্যমে একদিন আগেই গণমাধ্যমকর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, অথচ বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি গণমাধ্যমের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনওয়ারুস সালাম বলেন, ‘এটা ক্লোজ ডোর মিটিং থাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।’
তবে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে এর কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বৈঠকটি যদি শুরু থেকেই ‘ক্লোজড ডোর’ বা সাংবাদিকদের প্রবেশের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে আমন্ত্রণপত্রে সংবাদ ও চিত্রগ্রহণের জন্য রিপোর্টার ও ক্যামেরাপার্সন পাঠানোর অনুরোধ করা হলো কেন—এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। আমন্ত্রণের পর সাংবাদিকদের বৈঠকস্থল থেকে বের করে দেওয়াকে পেশাগতভাবে অসম্মানজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন ও মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের( জকসু) নেতা, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে জকসু জিএস, ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৭০জন আহত হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আরএফ
