বিজ্ঞাপন

ডাকসুর উদ্যোগে চীনা প্রতিষ্ঠানে ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ

ডাকসুর উদ্যোগে চীনা প্রতিষ্ঠানে ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ ও চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ জব ফেয়ার। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নে বিনামূল্যে বছরব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস. এম. ফরহাদ, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ সভাপতি রেন ওয়াং, আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর রানা, বাংলাদেশ চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ঝু গুয়াংলেই এবং ঢাকার চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর লি শাওপেংসহ সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কার্যনির্বাহী সদস্য রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা, চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে চীনের ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্স, শান-হাই চাইনিজ কোয়ারের ‘সেম সং’ এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর বাংলা গান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও সিএমসির যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘সিনো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ’ স্কলারশিপ ও বার্সারি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় ‘হুয়াওয়ে এআই ট্রেনিং প্রোগ্রাম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া, ২০২৬ সালের চাইনিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, জব ফেয়ারে চীনের ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান বলেন, জুলাই বিপ্লবে রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক চীন সফরে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ফসল হিসেবেই আজকের এই জব ফেয়ার ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চীনা দূতাবাস, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এ আয়োজন সফল হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় আকারের চাকরি মেলার সুযোগ সৃষ্টিতেও নানামুখী প্রশাসনিক বাধা ও প্রতিকূলতা ছিল। এসব বাধা অতিক্রম করে ডাকসুর উদ্যোগে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসীমের প্রচেষ্টায় এবং চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহায়তায় ৪৩০ জনের কর্মসংস্থানের এই আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু, চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এবং চীনের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় টিএসসিতে ‘সিনো-বাংলা ডে’ ও জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ের বিনামূল্যে বছরব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, ডাকসুর প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক চীন সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং অ্যাকাডেমিক আদান-প্রদান আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা অর্থায়নে ১ হাজার ৫০০ আসনের নতুন হল নির্মাণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাকসু নিরলসভাবে কাজ করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এজেডআর/এসএএস