বিজ্ঞাপন

সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক : ঢাবি উপাচার্য

সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক : ঢাবি উপাচার্য

সময়কে মূল্য দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা, দায়িত্বশীলতা ও অন্যের সময় ও অধিকারকে সম্মান করার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাবির কলা অনুষদের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স রুমে ‘স্ট্রেস ম্যানেজম্যান্ট ইন এভরিডে লাইফ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাবির কলা অনুষদ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহানূর হোসেন। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সেমিনারে কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষকতা পেশায় অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীলতা, কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং অন্যের সময় ও অধিকারকে মূল্য দেওয়ার মাধ্যমে এই চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা বিষয় যুক্ত হওয়ায় অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তাই মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, সময়কে মূল্য দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখলে পরবর্তী সময়ে তা আরও বড় চাপ তৈরি করে। তাই কাজ জমিয়ে না রেখে সময়মতো সম্পন্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু নিজের কাজ সম্পন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও সম্পৃক্ত। কোনো শিক্ষক সময়মতো পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন বা ফলাফল প্রকাশ না করলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হয়। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও নৈতিকতার বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জীবনে কোন সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কোন কাজটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন মানুষটি গুরুত্বপূর্ণ- এ তিনটি বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকলে জীবন আরও সুশৃঙ্খল ও আনন্দময় করা সম্ভব। সময়ের মূল্য দেওয়া, কাজকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা এবং অন্য মানুষের সময় ও প্রয়োজনের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবাই মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করেন। শিক্ষার্থীরা যাতে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন ধরনের চাপও কমে আসবে।

সেমিনারে মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্মিলিতভাবে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে অনেকে মনোবিজ্ঞানী, বন্ধু বা সহকর্মীর পরামর্শ নেন। তবে শিক্ষকসমাজের জন্য সম্মিলিতভাবে বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে মানসিক চাপ মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করা ইতিবাচক উদ্যোগ। তিনি এ আয়োজনের জন্য কলা অনুষদকে ধন্যবাদ জানান। 

এজেডআর/আরএফ