ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলার মাহদি মৌলায়ী আরানি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রথম সম্পূর্ণ ফারসি ভাষায় রচিত লিটল ম্যাগাজিন রোজনামচা-এর ‘ভ্রমণবিষয়ক সংখ্যার’ (দ্বিতীয় সংখ্যা) মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ৬১টি বিষয়ের ওপর প্রকাশিত এ সংখ্যায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের লেখা স্থান পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান স্বাগত বক্তব্য দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে মো. মুশফিকুর রহমান ও আতিকা রহমান এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মুসাররাত তাইয়েবা মুসকান ও পলাশ মাহমুদ অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রভাষক তানজিনা বিনতে নূর। এ সময় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইরানের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদি বলেন, ফারসি ভাষা ইসলামী সভ্যতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন। এ ভাষার মাধ্যমে প্রাচীন ইতিহাস, সাহিত্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও ফারসি ভাষার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ফারসি ভাষা ইরান ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি সেতুবন্ধন। এ ভাষার চর্চার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এজেডআর/আরএফ
