বিজ্ঞাপন

জাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে ১২ পদ খালি, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

জাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে ১২ পদ খালি, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস যেন শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির আরেক নাম। অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, নম্বরপত্র ও সনদসহ প্রয়োজনীয় যেকোনো দাপ্তরিক কাগজপত্রের জন্য এই অফিসে গিয়ে নিয়মিত চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় এবং তীব্র লোকবল সংকটের কারণে একদিকে যেমন স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে যথাসময়ে ফল প্রকাশ না হওয়ায় আটকে আছে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য ‘সম্পূরক বৃত্তির’ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। এর ওপর একজন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পিআরএলে (অবসরোত্তর ছুটি) গেছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও দীর্ঘ প্রায় এক দশকেও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কর্মরত সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটের পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতের পুরো চাপ রয়েছে এই একটিমাত্র দপ্তরের ওপর। ফলে যথাসময়ে বিভাগগুলোর ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে কাগজপত্র উত্তোলনের জন্য ৫ দিন এবং সাধারণ সময়ে ১৫ দিন সময় লাগার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারুক হোসাইন বলেন, কোনো সনদপত্র বা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে গেলে আমাদের এই দপ্তরে বারবার ধরনা দিতে হয়। এই অফিসের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই দীর্ঘ দেড় বছর আগে ফলাফল প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় বর্ষের বৃত্তির টাকা এখনও আমাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি।

স্নাতকোত্তরের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আল মাহদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাস্টার্সে উঠে গেলেও এখনও তৃতীয় বর্ষের বৃত্তির টাকা হাতে পাইনি। ফলাফল প্রকাশের পরও সেই টাকা কেন আমাদের দেওয়া হচ্ছে না সেটার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সম্পূরক বৃত্তির টাকা আটকে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, বৃত্তির তালিকা প্রকাশের আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের নির্দিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। এত দিন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আবদুস সালাম এই দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি অবসরে যাওয়ার পর অন্য কারও এই কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমনকি তাকে সাময়িকভাবে পুনরায় নিয়োগের কথা বলা হলেও সম্মানী চূড়ান্ত না হওয়ায় তিনি যোগদান করেননি। তার অনুপস্থিতিতে অন্য দুই অনভিজ্ঞ কর্মকর্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ায় কাজ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ জানান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে বৃত্তির ফলাফল আমাদের হাতে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় বৃত্তি প্রদানে বিলম্ব ঘটছে। সবেমাত্র একটি শিক্ষাবর্ষের ফলাফল আমাদের হাতে এসেছে। সব বর্ষের ফলাফল একসঙ্গে হাতে পেলে দ্রুতই বৃত্তির চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কানিজ ফাতেমা বলেন, শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পরপরই সম্পূরক বৃত্তির ফলাফল দেওয়া সম্ভব হলেও বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে জটিলতা তৈরি হয়। তাছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। অফিসে প্রায় ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। সীমিত লোকবল ও জায়গার সংকটে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। অল্প কয়েকজন কর্মীকে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলোতে লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কেবল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস নয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য যেসব দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে, সে বিষয়গুলোও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

মুহাম্মদ সাব্বির/এসএইচএ