বিজ্ঞাপন

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত

মানবাধিকার রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

মানবাধিকার রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

মানবাধিকার রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত আলবার্টো জিওভেনেত্তি। তিনি বলেছেন, মানবাধিকার শুধু আইন, আদালত বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যের মর্যাদা, সমতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের ড. আব্দুল্লাহ ফারুক অডিটোরিয়ামে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত তৃতীয় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলবার্টো জিওভেনেত্তি বলেন, সাধারণ অলিম্পিয়াড যেখানে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করে, মানবাধিকার অলিম্পিয়াড তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি তরুণদের শেখা, চিন্তা করা, প্রশ্ন করা এবং মানবাধিকার কেন গুরুত্বপূর্ণ- তা অনুধাবনের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, তরুণরা মানবাধিকারের শিক্ষার্থী ও বার্তাবাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অধিকার সম্পর্কে জানার পাশাপাশি অন্যের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া, বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও তাদের দায়িত্ব। অনেক সময় মানবাধিকার রক্ষার শুরু হয় খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন দিয়ে, এটি কি ন্যায়সংগত? কিংবা আমরা কি সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করছি?

ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তরুণদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, প্রযুক্তি তথ্য সংগ্রহ, সংগঠিত হওয়া এবং মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এর সঙ্গে ভুয়া তথ্য, হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সত্য, সম্মান ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয় করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে তরুণদের সংলাপ, জবাবদিহি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য আইনজীবী, বিচারক, কূটনীতিক কিংবা মানবাধিকারকর্মী হওয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহপাঠীর মর্যাদা রক্ষা, ভিন্ন মত ও অভিজ্ঞতার মানুষের কথা শোনা এবং অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করার মধ্য দিয়েই এখন থেকে মানবাধিকার চর্চা শুরু করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য মো. নূর খান লিটন বলেন, তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকারকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মতাদর্শের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সর্বজনীন মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের আলোকে দেখতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আইন বিভাগের বিষয় নয়; এটি সবার বিষয়। তরুণদের ছোটোবেলা থেকেই মানবাধিকার সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সমাজে মানবাধিকার নিয়ে বিদ্যমান সংকীর্ণতা ও একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে সর্বজনীন মানবাধিকারের ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই। মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্ব নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ তরুণদের মানবাধিকার বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের চার বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগী ও অতিথিরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

আয়োজক সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি জানায়, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং মানবাধিকার চর্চায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই তৃতীয় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মানবাধিকার বিষয়ে জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে একটি সক্রিয় তরুণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এজেডআর/আরএফ