বিজ্ঞাপন

বাকৃবিতে এআই বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘বিল্ড উইথ এআই’ অনুষ্ঠিত

বাকৃবিতে এআই বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘বিল্ড উইথ এআই’ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘বিল্ড উইথ এআই’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘ডিজিটাল এন্ট্রোপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও প্রতিযোগীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন। 

আয়োজকরা জানান, প্রথাগত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের বাইরে এসে দলবদ্ধভাবে কমিউনিটি গড়ে তোলা, শেখানো এবং একসঙ্গে সমস্যার সমাধান করাই এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। মিনি প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মাস্টার্স ও পিএইচডিসহ প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। ৩টি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল ঢাকা পোস্ট।

জেমিনাই ও ইলেভেন ল্যাবসের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) ব্যবহার এবং কৃষিক্ষেত্রে এআই-চালিত সমাধান তৈরির লক্ষ্যে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে মোট ৫টি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে এপিআইভিত্তিক অ্যাপ উন্নয়নে ২টি এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যার টেকসই সমাধান নির্ণয়ে ৩টি পুরস্কার রয়েছে। সবচেয়ে প্রভাবশালী ওয়েব অ্যাপ, সফল এপিআই ব্যবহার এবং কৃষিখাতে ভূমিকা রাখে— এমন অ্যাপ তৈরি প্রতিযোগিতার মূল বিবেচ্য বিষয়। আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারীদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান বলেন, জেমিনি, চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো এআই মডেল ভিডিও তৈরি ও কোডিং থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও বিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে কাজকে সহজ করে দিচ্ছে। তবে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি। এআই ভুল তথ্য দিতে পারে। তাই অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে তথ্য যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা এবং এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে নিজেদের চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের মৌলিক দক্ষতা হারিয়ে না ফেলার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফ বলেন, আজকে এখান থেকে তোমরা অনেক কিছু শিখে যেতে পারবে। ট্রেনিংয়ের প্রতিটি সেশন মনোযোগ দিয়ে করবে এবং নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে। আশা করি, এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে তোমরা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে তা কাজে লাগিয়ে নতুন ও উদ্ভাবনী কিছু তৈরি করতে পারবে।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, বর্তমানে শ্রেণিকক্ষের ফার্স্ট বয় হওয়া বা ভালো ফলাফল করাই বড় বিষয় নয়। বরং চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে কতটা প্রস্তুত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল কাজে লাগলেও সাধারণ চাকরির বাজারে দক্ষতা ও বাস্তব যোগ্যতাই প্রধান বিবেচ্য।

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর/এমএমবি