ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলে প্রভোস্ট কর্তৃক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় বিচার দাবিতে প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করার অভিযোগে হল ছাত্র সংসদের ভিপিসহ তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোকজ পাওয়া তিনজনের মধ্যে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি খন্দকার মোহা. আবু নাঈমসহ সংশ্লিষ্টদের এক কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
প্রক্টরের দপ্তরের নোটিশে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট কক্ষে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সত্যানুসন্ধানে উপাচার্যের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় গত ২০ আগস্ট হল অফিসের মাধ্যমে জানা যায়, হল ছাত্র সংসদের ভিপি প্রভোস্ট কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করেছেন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন বা নির্দেশনা ছাড়া কোনো প্রশাসনিক ভবন, অফিস বা কক্ষ তালাবদ্ধ, অবরুদ্ধ কিংবা সিলগালা করার এখতিয়ার কোনো ব্যক্তির নেই। এ ধরনের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধানের পরিপন্থি এবং প্রশাসনিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় কী কর্তৃত্ব, এখতিয়ার বা অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এক কর্মদিবসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণও ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
শোকজের বিষয়ে ইব্রাহিম বলেন, আমার ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রভোস্টের বিচারের দাবিতে তার কক্ষ তালাবদ্ধ করার ঘটনায় আমাকে, হলের ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদককে শোকজ করেছে প্রক্টরের দপ্তর।
তিনি আরও বলেন, আমার এখন ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। তারপরও নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচারের দাবিতে সাহস করে সোচ্চার হয়েছিলাম। এর পরিণতি আমার ওপর দিয়ে এভাবে যাবে? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন কি এভাবেই আমাকেই দোষী বানিয়ে শাস্তি দেবে?
ইব্রাহিম আরও বলেন, একদিকে নির্যাতনের ট্রমা, পরিবারের চাপ, অন্যদিকে আগামীকাল দুপুরে পরীক্ষা, সব মিলিয়ে আমি এখন ব্ল্যাংক হয়ে গেছি। আমি জানি না কার কাছে বিচার চাইব। এইভাবে আমাকে ভয় দেখিয়ে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংগঠনকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এগিয়ে না এলে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত আমাকেই অপরাধী বানিয়ে শাস্তি দিতে পারে। এতে অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করার পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এজেডআর/এমটিআই
