ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি আবাসিক কক্ষের ওয়ারড্রবের তালা ভেঙে এক শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। শুধু চুরিই নয়, এসব কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার নামে ওই শিক্ষার্থীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দিয়ে ভিডিও পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আহমেদ জুনাইদ (তন্ময়) আনন্দ মোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ২১৩ নম্বর কক্ষে থাকেন। তার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার তারাগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকায়।
ভুক্তভোগী ও হল সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহমেদ জুনাইদ। গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে তার বড় ভাই আহমেদ সাদিক (বাপ্পী) ‘সাজান মিয়া’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে বার্তা পান। ওই বার্তায় বলা হয়, তন্ময়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলটি তাদের কাছে রয়েছে এবং সেটি ফেরত পেতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। প্রমাণ হিসেবে মেসেজের সঙ্গে তন্ময়ের পাসপোর্টের ছবিও পাঠানো হয়।
পরে পরিবারের লোকজন আনন্দ মোহন কলেজের হলে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তন্ময়ের কক্ষের ওয়ারড্রবের তালা ভাঙা। সেখান থেকে তার প্রয়োজনীয় ফাইল ও টিউশনির কয়েক হাজার টাকা চুরি হয়েছে।
আহমেদ জুনাইদ বলেন, আমি হাসপাতালে শয্যাশায়ী, বিছানা থেকে উঠতেই পারছি না। ফাইলের ভেতর আমার এসএসসি, এইচএসসি ও অনার্সের মূল মার্কশিট, সনদ, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্মসনদ, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কারের সনদ ছিল। ব্ল্যাকমেইলকারীরা টাকা না পেয়ে ইতোমধ্যে একটি করে সনদ পুড়িয়ে দেওয়ার ভিডিও পাঠিয়েছে। কারা আমার মূল্যবান কাগজগুলো চুরি করে টাকা দাবি করছে, ধারণা করতে পারছি না। আমার জীবনের সব অর্জন ও স্বপ্ন এভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে, অথচ শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি নিজে কোথাও গিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
ঘটনার পর আজ সোমবার ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে জিডিতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহমেদ জুনাইদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু আমি অসুস্থ থাকায় আপাতত জিডি করেছি। জিডিতে হারিয়ে গেছে উল্লেখ করতে হয়েছে।
আনন্দ মোহন কলেজের নজরুল হলের সহকারী হল সুপার মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর কক্ষ থেকে কাগজপত্র চুরি এবং পরে টাকা দাবির বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাখাওয়াত সুমন/এসএইচএ
