বিজ্ঞাপন

ঢাকা কলেজের হলে এক শিক্ষার্থীর ২ সিট, ‘অনিয়মের সুযোগ নেই’ জানাল প্রশাসন

ঢাকা কলেজের হলে এক শিক্ষার্থীর ২ সিট, ‘অনিয়মের সুযোগ নেই’ জানাল প্রশাসন

ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাসে সিট (আসন) বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সিট দেওয়ার কথা থাকলেও একই শিক্ষার্থীকে দুটি আলাদা হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর্থিক অসচ্ছলতা ও ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী সিট পাননি; উল্টো পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হওয়া অনেককে দলীয় সুপারিশে সিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ প্রশাসন বলছে, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ নেই।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজের ছয়টি হলে ১১০ জনকে নতুনভাবে সিট বরাদ্দ দিয়েছে কলেজ প্রশাসন। এতে কলেজের দক্ষিণায়ন হল ও আন্তর্জাতিক হলের উভয় কক্ষেই সিট বরাদ্দ পেয়েছেন এক শিক্ষার্থী। এছাড়া সচ্ছল ও পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দলীয় সুপারিশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে হলে সিট বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। ফলে হলের নীতিমালা লঙ্ঘন করে সিট বরাদ্দ দেওয়ায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, দুই হলেই সিট পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম ইসফার আহমেদ জয়। তিনি ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দক্ষিণায়ন হলের ১০২ নম্বর কক্ষ ও আন্তর্জাতিক হলের ২০৭ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পেয়েছেন। হলে সিটসংকটের মধ্যে একাধিক কক্ষে একই শিক্ষার্থীর সিট পাওয়ার ঘটনায় বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, মনোবিজ্ঞান ও ইংরেজি বিভাগসহ প্রায় অধিকাংশ বিভাগ থেকে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে হলে সিট বরাদ্দের তালিকায় সুপারিশ করা হলেও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সিট বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে ছাত্রদলের একটি অংশের মধ্যেও সিট বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদলের অনেক কর্মীও সিট না পেলেও নির্দিষ্ট কয়েকজন ‘বড় ভাইয়ের কোরাম’-এর সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহীন আলম বলেন, ‘আমি ডিপার্টমেন্টে ভাইভা দিয়েছি এবং সেখানে উত্তীর্ণও হয়েছি। পরে আবাসিক হলে সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে আমার নামও ছিল। কিন্তু হঠাৎ কলেজ প্রশাসন থেকে প্রকাশিত হওয়া তালিকায় আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার জায়গায় যাকে সিট দেওয়া হয়েছে, তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক অসচ্ছলতা, ঢাকা থেকে স্থানীয় বাসার দূরত্ব এবং ফলাফলের ভিত্তিতে বৈধভাবে সিট পাওয়ার পরও আমার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে সিট দেওয়ার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আশা করি, কলেজ প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবে।’

কলেজটির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মঞ্জু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ইংরেজি বিভাগ থেকে সাত কলেজের মধ্যে প্রথম হয়েছি। বিভাগ থেকে আমার নামও দেওয়া হয়েছিল। অথচ হলে সিট পেয়েছে এমন শিক্ষার্থীরা, যারা তিন থেকে চারটি বিষয়ে ফেল করেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিভাগগুলোর সুপারিশকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সুপারিশের বাইরে কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। সিটের জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক। এর মধ্যে এবার মাত্র ১১০ জনকে সিট দেওয়া হয়েছে। ফলে কেউ সিট না পাওয়ায় অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকতে পারে। তবে বরাদ্দ দেওয়া ১১০টি সিটের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ নেই।’

বিভাগ থেকে একাধিকবার সংশোধিত তালিকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো বিভাগ প্রয়োজনে প্রথম তালিকার পর সংশোধিত বা পুনর্বিবেচিত তালিকাও দিতে পারে। প্রশাসনের কাছে বিভাগ থেকে সর্বশেষ যে তালিকা দেওয়া হয়, সেটিই বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেখানে দলীয়ভাবে কাউকে সিট দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতেই সিট দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘আসনসংখ্যা খুবই সীমিত। সে তুলনায় আবেদন অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে সিট দেওয়া সম্ভব না। তবে তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে কোনো ভুল হলে সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য ঢাকা কলেজের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে নতুন ১১০ জনকে সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কলেজ প্রশাসন। এরপর থেকে সিট বরাদ্দে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে।

এমওএইচ/বিআরইউ