বিজ্ঞাপন

মিলাদুন্নবীর ভালোবাসায় মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জুলুস, মিলাদ, নাতে রাসুল ও তবারকে ঢাবিতে দিনভর উৎসবের আবহ

জুলুস, মিলাদ, নাতে রাসুল ও তবারকে ঢাবিতে দিনভর উৎসবের আবহ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে এবার এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী আবহে মুখর ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মত-পার্থক্য ও বিভক্তির পরিবর্তে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুসরণের বার্তায় একত্রিত হন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা। জুলুস, মিলাদ মাহফিল, সিরাত আলোচনা, নাতে রাসুল, কোরআন তিলাওয়াত, তবারক বিতরণ, বই বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারাদিন প্রাণবন্ত ছিল ক্যাম্পাস।

আজ ১২ রবিউল আউয়াল (২৬ আগস্ট) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম দিবস। তার জীবনাদর্শ, মানবতা, ন্যায়, সহনশীলতা ও শান্তির বাণী স্মরণ এবং অনুসরণের প্রত্যয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এবার বিভিন্ন সংগঠন ও হল সংসদের উদ্যোগে নানামুখী কর্মসূচি দেখা যায়।

দিনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামি’তে বাদ যোহর মিলাদ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহা. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আলোচনা করেন।

উপাচার্য বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ে তুলতে পারলেই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি মহানবী (সা.)-এর সত্যবাদিতা, দয়া, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

বাদ আসর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হয় ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে জুলুস। “ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া হাবিব সালাম আলাইকা” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। জুলুসটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। একই সময় ইনকিলাব মঞ্চও কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ‘মাওলিদ মিছিল’ বের করে, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

dhakapost

সন্ধ্যায় টিএসসির পায়রা চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘মাওলিদ-এ মুহাম্মদ (সা.)’। অনুষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত করেন কারী মাহবুবুর রহমান। নাতে রাসুল পরিবেশন করেন কলরব শিল্পীগোষ্ঠী, দারুন্নাজাত শিল্পীগোষ্ঠী এবং শিল্পী মুস্তাফিজুর রহমান সহ আরও অনেকে।

অন্যদিকে, মধুর ক্যান্টিনের এশরাত মঞ্জিলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং প্রবাহ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় “খোয়াবে মদিনা- নবীজীর শানে নাতে রাসুল সন্ধ্যা”। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মিলাদ, নাতে রাসুল ও তবারকের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রিয় নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। মধুর ক্যান্টিন এলাকায় সমবেত কণ্ঠে দুরুদ ও নাত পরিবেশনের দৃশ্য ক্যাম্পাসে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা টিএসসির ডাচ চত্বরে আয়োজন করে ‘ইশকে মোস্তফা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। মিলাদ, নাতে রাসুল এবং তবারক বিতরণের মাধ্যমে তারা দিনটি পালন করে।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের উদ্যোগে হলের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘নাতে মোস্তফা’ অনুষ্ঠান। এতে মিলাদ, নাত সন্ধ্যা এবং হালুয়া-রুটি বিতরণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. রাকিবুল হক।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল দাওয়াহ অ্যান্ড কালচারাল ক্লাব এবং হল সংসদের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘সিরাত মাহফিল ও কুইজ প্রতিযোগিতা’। আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আতর, টুপি ও তবারক বিতরণ করা হয় এবং কুইজ বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের মসজিদে বাদ আসর মিলাদ মাহফিল, কিয়াম ও তবারক বিতরণ করা হয়। হল সংসদ, এলাকাভিত্তিক সংগঠন এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের নানা প্রান্তে নাতে রাসুল ও সিরাত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাওয়াহ সার্কেলও। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরির লক্ষ্যে ‘আমার নবীজি’ শীর্ষক বই ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও কার্জন হলসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পেইন বুথের মাধ্যমে এক হাজার কপি বই বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে দুরুদ ও নাতে রাসুলের সুরে এক পবিত্র আবহ সৃষ্টি হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মত ও সংগঠনের মানুষ প্রিয় নবীর ভালোবাসায় একত্রিত হন।

শিক্ষার্থীদের মতে, এবার ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এজেডআর/এসএম