ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সড়ক, স্পিড ব্রেকার ও যাত্রীছাউনির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ঢাবির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শ্যাডোর সামনের দেবে যাওয়া রাস্তা, এফবিএসের সামনের রাস্তার ফাটল এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের ভাঙা রাস্তা মেরামত করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্পিড ব্রেকারে নতুন করে রং করা এবং মুহসীন হলের গেটসংলগ্ন স্পিড ব্রেকার সংস্কারের কাজও করা হবে। এসব কাজ এক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ২৬ আগস্ট ঢাবির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দেওয়া এক চিঠিতে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক, স্পিড ব্রেকার ও যাত্রীছাউনির জরুরি সংস্কারের দাবি জানান ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাম্পাসের বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শ্যাডোর সামনে রাস্তা দেবে গিয়ে দুটি বড় গর্ত, বসুনিয়া তোরণের সামনে বড় গর্ত এবং এফবিএস গেটসংলগ্ন ল্যাম্পপোস্টের নিচে বিপজ্জনক আড়াআড়ি ফাটলের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে শ্যাডো পর্যন্ত রাস্তা, এফবিএসের মাঝের রাস্তা, বিশেষ করে এমবিএ ভবনের সামনে এবং বোটানি বিভাগের পাশ থেকে ফজলুল হক মুসলিম হল পর্যন্ত সড়কে কার্পেটিং ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।
ডাকসুর আবেদনে বিভিন্ন স্পিড ব্রেকার সংস্কারেরও দাবি জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে মুহসীন হল গেটসংলগ্ন ভাঙা স্পিড ব্রেকার মেরামত, কলাভবনের পেছনের স্পিড ব্রেকারের মুছে যাওয়া রং পুনরায় করা এবং টিএসসি সংলগ্ন স্পিড ব্রেকার আরও উঁচু করার কথা বলা হয়।
একই সঙ্গে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্ট ও দোয়েল চত্বরের মাঝামাঝি, টিএসসি থেকে মেট্রোরেল স্টেশনমুখী সড়ক এবং মোতাহার ভবনের সামনে নতুন স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নতুন কয়েকটি স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবি ও পরামর্শ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে কার্জন হল এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই ওই এলাকার সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাসের অধিকাংশ যাত্রীছাউনিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেগুলোর সংস্কারকাজও শিগগিরই শুরু হবে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুন্দর ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এজেডআর/আরএফ
