গবেষণার ক্ষেত্রে দলীয় রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা ও কাজের মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি বলেছেন, গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো ‘সাদা-নীল-গোলাপি’ পরিচয় বা পক্ষপাত যেন বিচারবোধকে আচ্ছন্ন না করে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬২ জন শিক্ষককে ‘ডিস্টিংগুইশড স্কলার রেকগনিশন ২০২৬’ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তদের একজন ছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।
পোস্টে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তার মধ্য থেকে বিশ্বব্যাপী গবেষণা-উদ্ধৃতি ও গবেষণায় উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬২ জন শিক্ষককে সম্মাননা জানানো হয়েছে। আয়োজকদের ভাষায় তিনিও এবারের ডিস্টিংগুইশড স্কলারদের একজন।
ব্যক্তিগত অর্জন বা স্বীকৃতির কথা প্রকাশ্যে বলতে তিনি সাধারণত অস্বস্তি বোধ করেন উল্লেখ করে সাবেক এই উপাচার্য বলেন, গত বছরও তিনি এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সে সময় এ নিয়ে কিছু লেখেননি।
এবারের আয়োজন নিয়ে নিজের বক্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বর্তমান ঢাবি প্রশাসন গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা ও তা এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ গবেষকদের স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। গত বছর তাদের সময়ে যে উদ্যোগ ও চর্চা শুরু হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসন তা চলমান রেখেছে, এতে তিনি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, অনুষ্ঠানে উপাচার্য ও উপস্থিত অতিথিদের সামনে তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে বেসরকারি ও আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে তুলনামূলকভাবে নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া অকার্যকর জার্নালের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আগামী চার বছরের মধ্যে অন্তত ১০টি সম্ভাবনাময় জার্নালকে স্কোপাস-এ অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে নির্বাচিত ও উন্নীত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
ঢাবিতে অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউট মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি গবেষণা সাময়িকী তালিকাভুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে কিছু সাময়িকী অনিয়মিত কিংবা মানের প্রশ্নে বিতর্কিত।
গবেষণাকে সহজতর ও উৎসাহিত করার উদ্যোগগুলোকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন সাবেক এই উপাচার্য।
নিজের পাওয়া স্বীকৃতি নিয়ে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, এটি কোনোভাবেই শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তার অধিকাংশ গবেষণাই সাবেক শিক্ষার্থী, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও গবেষণা-সঙ্গীদের সঙ্গে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। এই স্বীকৃতি তাদের প্রতি উৎসর্গ করে তিনি বলেন, তাদের মতো অসাধারণ মেধাবী মানুষের কাছ থেকে তিনিও অনেক কিছু শিখেছেন।
এজেডআর/আরএফ
