বিজ্ঞাপন

ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে জবির বর্ণিল শোভাযাত্রা

ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে জবির বর্ণিল শোভাযাত্রা

রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘ঢাকা দিবস ২০২৬, হৃদয়ে ঢাকা’ উদযাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অংশগ্রহণে বর্ণিল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পুরান ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও লোকজ জীবনধারার নানা অনুষঙ্গ বিভিন্ন প্রতিকৃতির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ শীর্ষক মাসব্যাপী এ আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতারা, ছাত্রদল ও বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যরাও শোভাযাত্রায় ছিলেন।

এ ছাড়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশের সদস্যরা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রায় পুরান ঢাকার নানা প্রতিকৃতি উপস্থাপনা ছিল বৈচিত্র্যময়। পুরান ঢাকার খাদ্য ও যাতায়াত সংস্কৃতিও স্থান পায় শোভাযাত্রায়। বড় আকারের স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি, জিলাপি, বাকরখানি, ঘুড়ি ও নাটাই, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুঠি, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেটের প্রতিকৃতিও ছিল।

ঐতিহাসিক চরিত্রের রূপায়ণও শোভাযাত্রায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। রানি ভিক্টোরিয়া, নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, নিকোলাস পোগোজ ও পরিবিবিসহ ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন চরিত্রের আদলে অংশগ্রহণকারীরা সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা যুক্ত করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা। গান ও নাট্যরূপের মাধ্যমে তারা পুরান ঢাকার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন বলেন, এটা হলো আমাদের প্রাণের উচ্ছ্বাস। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন এই র‍্যালিতে। পুরান ঢাকার বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই র‍্যালি শুরু হওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের।

তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু পুরান ঢাকায় নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে।

শোভাযাত্রাটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক, কোর্ট চত্বর, রায়সাহেব বাজার ও গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়।

নগর ভবনে শোভাযাত্রা শেষে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকার প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নগরবাসী ও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের সূচনা করা হয়েছে।

শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে রাস্তার দুই পাশে নানা বয়সী মানুষের ভিড় দেখা যায়। বর্ণিল সাজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে পুরান ঢাকার সড়কগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকার দীর্ঘ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসএএস