বিজ্ঞাপন

তরুণদের মেধাকে রাজনৈতিক দলের খেলনায় পরিণত করা যাবে না : শিশির মনির

তরুণদের মেধাকে রাজনৈতিক দলের খেলনায় পরিণত করা যাবে না : শিশির মনির

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, দেশের তরুণদের মেধা ও প্রতিভাকে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর খেলনায় পরিণত করা যাবে না৷ তরুণদের স্বাধীন চিন্তা, ব্যক্তিত্ব ও মেধার বিকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হলে দেশের ভবিষ্যৎ পিছিয়ে পড়বে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবিরের  ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, ‘কে জিন্দাবাদ, কে মুর্দাবাদ’ এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগানের চেয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়া বেশি জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মন-মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে হবে, যাতে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দল শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলে তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করার সাহস তাদের থাকতে হবে। তাদের ব্যক্তিত্ব, মেধা ও চিন্তাশক্তি কোনো দলের কাছে বিকিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। যাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, পিএইচডি, সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আনা উচিত। রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো দলের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে কাউকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া সংকীর্ণ চিন্তা।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধিপত্যবাদের বলয় থেকে মুক্ত করা যায় না, সে জাতি কখনো উন্নত হতে পারে না৷ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়। হলের একটি সিট পেতে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে কেন কোনো নেতার পেছনে ঘুরতে হবে, এটি হতে পারে না। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর কোনো সাবেক শিক্ষার্থী বা নির্বাচিত প্রতিনিধির হলে থাকার সুযোগ থাকা উচিত নয়। অনার্স-মাস্টার্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের ছোট ছোট দেশগুলো মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও মেরিটোক্রেসির চর্চা করে আজ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশ মেধা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনেছে। অন্যদিকে আমাদের বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানের মেধাবীরা অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড বা কেমব্রিজে গিয়ে সফল হলেও, দেশের সঠিক কাঠামোর অভাবে দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পায় না।

চবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাকসুর ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আবু মুসা প্রমুখ৷

আরএআর