ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) রোববার (৩০ আগস্ট) “উচ্চশিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক জ্ঞান বিনিময়” শীর্ষক একটি উচ্চ-পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভারের বিরুলিয়ায় ‘ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি’-তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এ কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবিরের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএসি সদস্য (পূর্ণকালীন) অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান, পরিচালক (অ্যাক্রেডিটেশন এবং কিউএ ও এনকিউএফ) অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন (অ্যাকাডেমিক অ্যাফেয়ার্স) ও আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল।
অ্যাক্রেডিটেশন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, মানদণ্ড নির্ণায়ক, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এবং অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল নথিপত্র সংরক্ষণের গুরুত্ব বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় ও অ্যাকাডেমিক আলোচনার লক্ষ্যে এই কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। বিএসির বিশিষ্ট প্রতিনিধি এবং ডিআইইউয়ের ঊর্ধ্বতন নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, সহযোগী ডিন, বিভাগীয় প্রধান, সহযোগী প্রধান, শিক্ষকরা এবং ‘প্রোগ্রাম সেলফ-অ্যাসেসমেন্ট কমিটির’ (পিএসএসি) সদস্যরা এই কর্মশালায় অংশ নেন।
এই কর্মশালার অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিএসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খানের জ্ঞান-বিনিময় পর্ব। তিনি অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনগুলোতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাক্রেডিটেশনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা বা ভীতি পোষণ না করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, অর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার সময় নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের সুশৃঙ্খল নথীকরণ অপরিহার্য।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান অ্যাক্রেডিটেশন (স্বীকৃতি) ও বৈশ্বিক মানদণ্ড বিষয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। তিনি অ্যাক্রেডিটেশনের স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বিএসি এবং অন্যান্য অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এবং গুণগত মান উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত পরিবর্তনশীল ও নতুন নতুন শর্তাবলির সঙ্গে ডিআইইউ যথাযথভাবে মানিয়ে চলতে পারে।
বিএসির বিশিষ্ট প্রতিনিধিগণ পরবর্তীকালে বিভিন্ন বিভাগের অনুষদ সদস্যদের সঙ্গে একটি আকর্ষণীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন। অনুষদ সদস্যরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা বিএসি প্যানেলিস্ট এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি-সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত, পদ্ধতিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়াবলির উপর মতামত বিনিময় এবং অর্থপূর্ণ অ্যাকাডেমিক আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়।
এই কর্মশালাটি ডিআইইউ-এর প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ, সংস্কৃতি এবং স্বীকৃতির প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করার চলমান প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। আশা করা যায়, বিএসির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রদত্ত জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি ডিআইইউ-এর অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভাগসমূহকে স্বীকৃতির আবশ্যকতা সম্পর্কে গভীরতর ধারণা তৈরি করতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রমাণ-ভিত্তিক নথিপত্রকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুণগত মান, জবাবদিহিতা ও ধারাবাহিক উৎকর্ষ সাধন এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রতিই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আরএফ
