গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (ডুয়েট) দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার অঙ্গীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
তিনি বলেছেন, ‘যুগোপযোগী টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠতম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বদরবারে জ্ঞানে, দক্ষতায় ও মানবতায় অনন্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।’
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ‘ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ডুয়েট একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রতি বছর এখান থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
তিনি বলেন, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটদের অবদান রয়েছে। একইসাথে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা নিজেদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন।
ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৮১ সালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয় এবং ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বলেন, ডুয়েট দেশের ডিপ্লোমাধারী প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের ঠিকানা। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এ সময়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।
দিনব্যাপী আয়োজনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ওড়ানো, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে বর্ণাঢ্য র্যালি, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
আরএইচটি/এনএফ
