বিজ্ঞাপন

সংবাদে লাইক-কমেন্টের অভিযোগে জবি অধ্যাপককে বরখাস্তের শোকজ

সংবাদে লাইক-কমেন্টের অভিযোগে জবি অধ্যাপককে বরখাস্তের শোকজ

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি সংবাদে লাইক ও মন্তব্য করা এবং সংবাদটি প্রকাশে সহযোগিতার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা উপযুক্ত দণ্ড দেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। 

চিঠিতে অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো— ১. ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ‘যথাসময়’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান, শিক্ষকবৃন্দ ও সমন্বয়কসহ শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে সহযোগিতা করা। ২. প্রকাশিত ওই সংবাদে একাধিক লাইক ও মন্তব্য করে অবাস্তব তথ্য প্রচারে সহযোগিতা করা। ৩. বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্রমূলক কাজে অংশ নেওয়া। ৪. পরবর্তী জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করা হলেও সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করিয়ে প্রশাসনিক আদেশ ও আইনসংগত নির্দেশ অবজ্ঞা করা।

চিঠিতে বলা হয়, অধ্যাপক নজরুল ইসলামের এসব কর্মকাণ্ড জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর ৪৪(৬) অনুচ্ছেদ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধিতে বর্ণিত ‘অসদাচরণ (Misconduct)’ হিসেবে গণ্য। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি হতে তাকে কেন বরখাস্ত করা হবে না বা অন্য কোনো দণ্ড দেওয়া হবে না—তা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রারের নিকট লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে বা জবাব সন্তোষজনক না হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তাধীন। তাই এ নিয়ে আমি এখন কোনো কথা বলব না।’

অভিযোগের সত্যতা বা প্রমাণের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, অভিযোগনামায় ‘যথাসময়’ পোর্টালের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের ‘অকপট স্বীকারোক্তি’ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ওই সংবাদে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে অধ্যাপক নজরুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর তাকে বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব ধরনের রুটিন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘তদন্তাধীন কোনো বিষয় নিয়ে আমার বক্তব্য দেওয়া সমীচীন হবে না। এটি একটি বিভাগীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং এমন অনেক প্রক্রিয়াই চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সেটা নিয়ে পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে, কিন্তু তদন্ত চলাকালে কিছু বলা যাবে না।’

তদন্তাধীন কোনো বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে প্রশ্ন তোলা বা অনুসন্ধান করা ‘অনৈতিক ও বেআইনি’ বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।

এমএআর/