ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাইকার প্রতিনিধি নিশি রিজুকির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে জাইকার অর্থায়নে ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সহায়তায় সম্ভাব্য ইয়েন ঋণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জাইকা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গবেষণা দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারে সহযোগিতার কথা জানান তারা।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে জাইকার প্রতিনিধি দলের প্রধান এ-সংক্রান্ত প্রকল্পের একটি খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মো. তারিক, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম উন্নয়নে জাইকার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অভিহিত করেন।
উপাচার্য বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তৃতীয় ভাষা, জীববিজ্ঞান, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি ও পরিবেশ বিজ্ঞানের মতো গবেষণাগারভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে জাপানের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। কার্যকরভাবে গবেষণা পরিচালনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ‘ল্যাব টু ল্যাব’ যৌথ কর্মসূচি গ্রহণেও তিনি জাইকার সহযোগিতা চান।
এ ছাড়া সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে জাইকার আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য।
এজেডআর/এনএফ
