বিজ্ঞাপন

মিটফোর্ডে সুইপার কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে জবি ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

মিটফোর্ডে সুইপার কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে জবি ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মিনিয়ালস কোয়ার্টার (সুইপার কলোনি) থেকে হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা। মিছিল থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করে বসবাসরত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবন প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি চত্বর, মুক্তমঞ্চ ও ভাস্কর্য চত্বরে হয়ে মিছিল নিয়ে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কলোনিতে গিয়ে সমাবেশ করেন জোটের নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদ মিছিলে ‘হরিজনদের উচ্ছেদ করা, চলবে না, চলবে না’, ‘মিটফোর্ডে উচ্ছেদ করা, চলবে না, চলবে না’, ‘আমাদের বসত ভিটা, আমাদের থাকবে’, ‘পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা, চলবে না’, ‘হরিজনদের অধিকার, দিতে হবে, দিয়ে দাও’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সুইপার কলোনিতে বসবাস করে আসা হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে কোনো ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদের উদ্যোগ বৈষম্যমূলক। উন্নয়নের নামে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, একটি বসত ভিটার নাম মিনিয়াল, মিনিয়ালস মানে দাস, ভৃত্য। এই নামে একটা কলোনি চলছে ১০০ বছর ধরে। আজকে ২০২৬ সালে এসেও একটা কমিউনিটিকে দাস হিসেবে অ্যাড্রেস করা হয়, তখন বোঝা যায় রাষ্ট্রের কী অবস্থা। এই কলোনিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা থাকেন, যারা আমাদের এই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন। বিনিময়ে তারা যে মজুরি পান, তা অত্যন্ত নগণ্য। একশ টাকা থেকে দেড়শ টাকা মজুরি, এই টাকা আমাদের অনেকের নাস্তা করতেই চলে যায়। অথচ তাদের পুরো একটা পরিবার চালাতে হয়। সেখানে প্রায় দুইশজন মানুষ থাকেন। কিন্তু তার বিপরীতে মাত্র ৩টা ওয়াশরুম আছে। একটা অমানবিক অবস্থার মধ্যে তারা থাকছেন। এইটুকু আয়োজন থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মিটফোর্ড হাসপাতাল কতৃপক্ষ নোটিশ দিয়েছে যে এটা একটা পরিত্যক্ত জায়গা। তাই এটা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু এই হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের পুনর্বাসন করার কথা তারা বলছে না। তারা মিটফোর্ড হাসপাতালেরই কর্মচারী, কিন্তু তাদের দায়িত্ব মিটফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি এই রকম প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের সব শিক্ষার্থীদের শামিল হওয়া উচিৎ। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হওয়া উচিত।

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর জবি শাখার আহ্বায়ক রিয়াদ বলেন, মিনিয়ালস কলোনিতে হরিজনরা দেড়শ বছরের অধিক সময় বসবাস করছে। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করে কাঁচামালের আড়ত দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

উল্লেখ্য, মিটফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের মিনিয়ালস কোয়ার্টার (সুইপার কলোনি) বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করে এবং ১৫ দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ জারি করে।

এসএএস