বিজ্ঞাপন

‘এত চাপ নেওয়া আর সহ্য হচ্ছে না’, অব্যাহতি চান জাবির প্রকল্প পরিচালক

‘এত চাপ নেওয়া আর সহ্য হচ্ছে না’, অব্যাহতি চান জাবির প্রকল্প পরিচালক

‘এতো চাপ নেওয়া আর সহ্য হচ্ছে না আমার পক্ষে। কেউ চাইলে আমাকে শ্যুট করে দিক, তাহলে শান্তি পাব। আমি স্যারকে বলব, আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন, আমি আর পারছি না।’

অভ্যন্তরীণ প্রকল্প নিয়ে তথ্য জানতে চাইলে এমন মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা গত এক সপ্তাহ যাবত ওনাকে ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি মিটিংয়ে আছেন, ক্যাম্পাসের বাইরে আছেন বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে কল রিসিভ না করা এবং ম্যাসেজের রিপ্লাই না দেওয়াসহ চরম অসহযোগিতার অভিযোগ উঠে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে।

দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা জানতে, অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। রাত ১০টার পরে কল দেওয়া হলেও তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে কল কেটে দেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে অফিসে সাক্ষাৎ করা যাবে কিনা জিজ্ঞেস করলে, ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে হবে না, কালকেও হবে না। পরের সপ্তাহে, ৯ তারিখের পরে।’ তিনি কেমন প্রশাসনিক কাজে বাইরে আছেন আর দেখা করতে এতো দেরি কেন সেটা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তিনি ক্ষোভ নিয়ে আরও জানান, ‘আমার যা হয় হবে, আমি কোনো কিছু এখন ভয় করি না। আমি কী করব? আমি কি জান দিবো?’

প্রকল্প অফিসের কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেও তার কাজে ফাঁকি দেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়। অফিসে ঠিক টাইমে উপস্থিত না থাকার কারণ নিয়ে তার সহকর্মীরা ‘মন্ত্রণালয়ের সাথে নাসির সাহেবের ব্যস্ততা’কে অযুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সাথে। তিনি নিজের ব্যস্ততাকে উদাহরণ টেনে বলেন, কাজে ফাঁকি দেওয়া কারো থেকে কাম্য নয়। আমি সবাইকে এটা বলি সবসময়।

পিডি (প্রজেক্ট ডিরেক্টর) নাসিরের উপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ দেওয়া হচ্ছে কিনা বা তার কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে সবার সাথে অসহযোগিতামূলক আচরণ করছেন কিনা জানতে চাইলে ভিসি জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না এবং নাসিরের সাথে দেখা করতে সরাসরি অফিসে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। যদিও গত কয়েকদিন যাবৎ একাধিকবার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন জাবির প্রকল্প পরিচালকের পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুহাম্মদ সাব্বির/এসএইচএ