সনাতন ধর্মের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩ তম শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে ঢাকা কলেজে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকা কলেজের পশ্চিম ছাত্রাবাসের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী গিয়ে শেষ হয়।
শোভযাত্রাটি উদ্বোধন করেন ঢাকা কলেজ পশ্চিম ছাত্রাবাসের প্রোভোস্ট অধ্যাপক কামরুজ্জামান। এসময় বক্তব্যে তিনি সুশৃঙ্খলভাবে আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য সমাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তোমরা সকলে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আনন্দের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে এখান থেকে যাত্রা করবে এবং সুন্দরভাবে আবার এখানে ফিরে আসবে-এটাই প্রত্যাশা করছি। আনন্দের পাশাপাশি শৃঙ্খলাও বজায় রাখতে হবে। মানুষের অধৈর্য হওয়ার মতো কিংবা কারও মনে আঘাত লাগে, এমন কোনো কাজ যেন এই শোভাযাত্রা থেকে না হয়। এ বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
হল পরিচালনা ও শোভাযাত্রার ব্যয় প্রসঙ্গে প্রোভোস্ট বলেন, যেহেতু এটি হোস্টেল এবং ছাত্রদের টাকায় পরিচালিত হয়, তাই আমি ইচ্ছা করলেও অনেক কিছু করতে পারি না। তবে কলেজ প্রশাসনের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব করেছি। গতবার তুলনামূলকভাবে কম খরচ হয়েছিল ও কিছুটা বিড়ম্বনাও হয়েছিল। এবার আমি বলছি, ফুল সাপোর্ট থাকবে, কোনো সমস্যা হবে না।
ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
পরিসংখ্যান বিভাগের ২২-২৩ সেশনে শিক্ষার্থী সীমান্ত কুমার বলেন, জন্মাষ্টমী মূলত আমাদের পরমেশ্বর ভগবানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমরা পালন করে থাকি। ৫২৫৩ বছর পূর্বে মথুরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয় যে কংশের কারাগারে এবং ধরাধামে অধর্মের পতন করার জন্য তার জন্ম হয়। সেই সময় ধর্মের একটাই চলছিল মন্দা চলছিল এবং অসুর প্রবৃত্তি বেড়ে গিয়েছিল এই সময়টাতে ভগবান নিজে আবির্ভূত হন আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য।
২০১৮-১৯ সেশনের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ হালদার বলেন, ঢাকা কলেজে বহু বছর যাবত পরম্পরার ধারায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী মহোৎসব পালিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় এ বছরও হচ্ছে। আমরা প্রতিবছর এই দিনটাকে খুবই আনন্দ, ভক্তিময় এবং আরম্ভরপূর্ণভাবে পালন করি। এদিন আমরা ভগবানকে পূজার্চনার মাধ্যমে আমাদের দিন শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা কলেজের শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে মূল শোভাযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হবে। এর পর সন্ধ্যার তুলসী আরতি সন্ধ্যা আরতি, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা মহিমা কীর্তন ও আলোচনা সভা করা হবে। তারপর ভগবানকে মহা অভিষেকের মাধ্যমে আমরা পূজা করব তারপর পুষ্পাঞ্জলি হবে এবং সবশেষে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অন্যায় ও অসুরশক্তির দমন এবং ন্যায়, সত্য ও সুন্দর প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিবছর তার জন্মতিথি স্মরণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়।
জেআই
