৪ দফা দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে প্রো-ভিসি (প্রশাসন), প্রো-ভিসি (শিক্ষা), প্রক্টর, ট্রেজারার ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে চার দফা দাবির কাজ দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার ও ওয়াশরুমসংলগ্ন ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন, হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক নির্মাণ, নষ্ট হয়ে যাওয়া খেলার মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু এবং হলের চারপাশে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণের জন্য কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট করা হলেও গত তিন থেকে চার বছরেও তা সংস্কার করা হয়নি। এ ছাড়া পুরোনো এই হলের চতুর্থ তলার ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ে এবং ওয়াশরুমসংলগ্ন কক্ষগুলোর পলেস্তারা খসে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এতে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আজ এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ লোকমান গালিব বলেন, আমাদের এই চার দফা দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। এটি শুধু একজন বা দুজনের নয়, পুরো হলের শিক্ষার্থীদের দাবি। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার শাহরিয়ার (বাংলা বিভাগ, ৫০তম ব্যাচ) বলেন, গত এক বছর ধরে প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবিগুলো জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু প্রতিবারই তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরে প্রো-ভিসি (প্রশাসন), প্রো-ভিসি (শিক্ষা), প্রক্টর, ট্রেজারার ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেখানে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠ সংস্কারসহ চার দফা দাবির কাজ দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ভিসি স্যারের পরামর্শক্রমে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুততার সাথে কাজ শুরু হবে। আপাতত দৃশ্যমান কাজের অংশ হিসেবে মাঠের ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কারও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুহাম্মদ সাব্বির/এমএমবি
