বিজ্ঞাপন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশে নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মূল ফটকে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। 

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইবা কোটার কবর দে’, ‘মেধা ধ্বংসের নিয়মনীতি, মানি না মানব না’, ‘নিয়োগ নিয়ে তালবাহানা, মানি না মানব না’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান খান বলেন, সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় প্রায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পেছনে একটাই কারণ রয়েছে, তা হলো তারা দলীয় ক্যাডারদেরই চাকরি দিতে চায়। তারা মেধাবীদের বঞ্চিত করে নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দিতে চায়। আমরা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, কোনোভাবেই এ ধরনের প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তারেক হাসান বলেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রসমাজ রক্ত দিয়েছিল, জীবন দিয়েছিল এবং তার ওপর দিয়েই এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল যেহেতু রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই সরকার এসেছে সেহেতু অন্তত নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। কিন্তু তারা কিছুদিন আগেও কমিটির ওপর দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা করেছিল। তারা আবারও ফন্দিফিকির করেতেছে, কোটার থেকে বড় কোটা চালু করার। এই ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে। 

এ সময় বক্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে এবং নিয়োগে দলীয়করণ বৃদ্ধি পাবে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভাতে আগের প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি জানান এবং না মানলে কঠোর আন্দোলনের‌ও হুঁশিয়ারি দেন।

রিপন শাহরিয়ার/এএমকে