চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার দলীয় লোক নিয়োগের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত না থাকলে আবারও আন্দোলন শুরু হবে। দেশ গড়তে শতভাগ মেধার মূল্যায়ন এবং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী বাছাইয়ের দাবি জানান তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সাদ্দাম বলেন, চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার নিজের দলীয় লোক নিয়োগের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। যদি সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত না থাকে তাহলে আবারও আন্দোলন শুরু হবে। শতভাগ মেধার ভিত্তিতেই একটি দেশ গড়ে উঠবে এবং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের নিতে হবে।
রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, পিএসসি, নির্বাচন কমিশন ও মহা হিসাবনিরীক্ষকের কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোগুলোতে সংস্কার করতে হবে। পিএসসির গঠনমূলক সব সংস্কার করা প্রয়োজন। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিটিতে শপথ নেওয়ার বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী শপথ নিলেও বিএনপি শপথ নেয়নি।
তরুণ প্রজন্মকে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, আপনারা মনে করছেন তরুণ প্রজন্ম কিছুই বোঝে না, তারা এমনি এমনি জুলাই বিপ্লব করেছে। সরকারকে অনুরোধ জানাই, বর্তমান প্রজন্মকে দুর্বল মনে করবেন না, আমাদের মেধাকে নষ্ট করবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাদ্দাম। তিনি বলেন, এলাকায় এলাকায় রাস্তাঘাটে বিশ্ববিদ্যালয় বানানো হচ্ছে কিন্তু শিক্ষার্থীদের শতভাগ থাকার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে না। যে বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্রদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের থাকার নৈতিক কোনো অধিকার নেই।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারলেও ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসনের জন্য বাইরে থাকতে হয়।
তিনি বলেন, পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথাযথভাবে করা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকার আদায় করতে শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে আবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীরা গণরুম ভেঙে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমগুলো ভেঙে ছোট ছোট সিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে সিট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
জুবায়ের জিসান/এসএইচএ
