বিজ্ঞাপন

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে বাংলার স্যার সৈয়দ বলা যেতে পারে : ঢাবি উপাচার্য

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে বাংলার স্যার সৈয়দ বলা যেতে পারে : ঢাবি উপাচার্য

বৃহৎ বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে ‘বাংলার স্যার সৈয়দ’ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, বৃহৎ বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকার সঙ্গে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের ভূমিকার তুলনা করা যায়।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারমূলক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, তারা উভয়েই ব্রিটিশ ভারতের অবহেলিত মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন। দুই মনীষীই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ধর্মীয় গোড়ামি এবং আধুনিক ইংরেজি শিক্ষার অভাবই ভারতবর্ষের মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এ কারণে তারা সমাজকে ইংরেজি ও আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাঙালি জাতি-মানস গঠনের অন্যতম সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে একজন রেনেসাঁপুরুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি মুসলমানের জাগরণের পর্বে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা একজন রেনেসাঁপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ব্রিটিশ-ভারতে তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় আইসিএস অফিসার, শিক্ষা বিভাগের একমাত্র ভারতীয় সহকারী পরিচালক এবং বাংলা একাডেমির প্রথম ফেলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় আহ্ছানউল্লার সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা খসড়া বিলের স্পেশাল কমিটির সদস্য হিসেবে বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন করে অত্যন্ত সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সমাজ সংস্কারেও খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার অবদানের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মুসলিম সমাজের কুসংস্কার দূর করতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান যেমন ‘তাহযীব-আল-আখলাক’ নামক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন, তেমনি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাও সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন এবং ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এইচএম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আতাউর মাহমুদ রানা এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।

সেমিনারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ আমেরিকান মুসলিম অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যামফোর্ডের রাহমাতুল্লিল আলামীন জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এমএফএম এনামুল হক। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার রচিত ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার চিন্তন ও রচনায় ফারসি ভাব-দর্শনের প্রভাব’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এজেডআর/আরএফ