সরকারি তিতুমীর কলেজে দেয়াল লিখন কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।
সংগঠনটির দাবি, কর্মসূচি চলাকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে সংগঠনটির কলেজ শাখার আহ্বায়ক সোহাগ প্রামাণিক আহত এবং সদস্য তানহা জামান হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষ্যে তিতুমীর কলেজ শাখার উদ্যোগে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সার্বভৌমত্বের দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, কর্মসূচি চলাকালে কলেজ শাখার সদস্য সচিব সেলিম রেজা ও আক্কাছুর রহমান আঁখি হল শাখার সভাপতি মো. মাইন উদ্দিন তোহা আকন্দের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আহত ও হেনস্তার অভিযোগের পাশাপাশি তানহা জামানকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
এর প্রতিবাদে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শামসুন নাহার হল, হাকিম চত্বর ও স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমুর সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি তৈয়ব ইসলাম। বক্তব্য দেন তিতুমীর কলেজ শাখার সদস্য সালমান শেখ ও তানহা জামান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ।
হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে ভিন্নমত দমন ও আধিপত্যের রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভিন্নমতের ওপর হামলা ও দমন কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে না। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন আধিপত্য ও ভিন্নমত দমনের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালিয়েছে, ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আধিপত্যবাদী আচরণ, সন্ত্রাস ও ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রে দুই সংগঠনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নেই বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরও ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ উদ্বেগজনক। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো সংগঠনের হামলা চালানোর অধিকার নেই। এ ধরনের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের পরিপন্থি।
এজেডআর/জেআই
