জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দোকানের মালিকানাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত নয়জন আহত হন।
জানা গেছে, কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে অবস্থিত ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। নজরুল হলের সামনে দোকানগুলো অবস্থিত হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা এর নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরাও মালিকানা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দানা বাঁধতে থাকে। একপর্যায়ে সোমবার দুপুরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয়পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের পর নয়জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসেন।
এ বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রিজওয়ানুর রহমান জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের সাভারের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বাকিরা চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— আলী আরাফাত (পাবলিক হেলথ, ৫৩তম ব্যাচ), আদনান আল মাহাদী (অর্থনীতি, ৫২তম ব্যাচ), রেদোয়ান (ভূগোল, ৫২তম ব্যাচ), এস এম শিমুল (জার্নালিজম, ৫২তম ব্যাচ), কাজী রোকনুজ্জামান (আইন ও বিচার, ৫৫তম ব্যাচ), রোহান (পরিবেশ বিজ্ঞান, ৫২তম ব্যাচ), স্বাধীন (পরিবেশ বিজ্ঞান, ৫৫তম ব্যাচ), রাবিদ (অর্থনীতি, ৫২তম ব্যাচ) এবং আরাফাত (বিএমবি, ৫৫তম ব্যাচ)।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, দুই হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আবারও সংঘাত এড়াতে দুই হলের শিক্ষার্থী ও হল প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, দিনভর দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চললেও নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসার আগেই মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে অবস্থান করছেন এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে দুই হলের ভিপি ও জিএসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
মুহাম্মদ সাব্বির/আরএআর
