‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। দেশের উদ্ভাবক, গবেষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে বাজার ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত করা যায়—মেলায় সে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও একক উদ্ভাবকদের ১৫০টিরও বেশি উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি রয়েছে ৫০ জনেরও বেশি শিল্পবিশেষজ্ঞের উপস্থিতি, ১৫টিরও বেশি সেশন ও সংলাপ এবং ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
এই বৃহৎ আয়োজনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ‘বিইউবিটি ইনোভেশন হাব’। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী সক্ষমতা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোকে দেশের বৃহত্তর উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমের সামনে তুলে ধরতেই তাদের এই অংশগ্রহণ।
বিইউবিটি ইনোভেশন হাবের আওতায় মেলায় যোগাযোগ, কৃষি, বায়োমেডিকেল, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের মোট ৯টি প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণাভিত্তিক সমস্যা সমাধান এবং প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানার্জনের স্থান নয়, বরং নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিইউবিটি ইনোভেশন হাবের এই অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব প্রয়োগের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরিতে তরুণদের উৎসাহিত করার সুযোগ সৃষ্টি করছে এই আয়োজন।
এই অংশগ্রহণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের তৈরি উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর অঙ্গনে উপস্থাপন করা। একটি ভাবনা কীভাবে গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব সমাধানে রূপ নিতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বাজারমুখী উদ্যোগে পরিণত হতে পারে, সেই সম্ভাবনাও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণার ফল বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা এবং সেগুলোকে টেকসই উদ্যোগে পরিণত করা প্রয়োজন। ‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ ধারণাটি সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। একটি উদ্ভাবনের সার্থকতা শুধু তার নতুনত্বে নয়; তা মানুষের বাস্তব সমস্যা কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারে এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে একটি কার্যকর উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, গবেষক, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় অপরিহার্য। বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ সেই সমন্বয়ের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। আর এতে বিইউবিটি ইনোভেশন হাবের ৯টি প্রকল্পের উপস্থাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও গবেষণার ধারাকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
এমএন
