বিজ্ঞাপন

গাঙচিলের সঙ্গে ক্লান্তিহীন সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ

অনিন্দ্য সুন্দর নাফ নদী। যার এক পাশে বাংলাদেশ, অন্য পাশে মিয়ানমার। এই নাফ নদী পেরিয়েই সাগর পথে জাহাজে পৌঁছাতে হয় বাংলাদেশের শেষ ভূখণ্ড সেন্টমার্টিন। টেকনাফের জেটিঘাট থেকে জাহাজ চলতে শুরু করলেই ঝাঁক বেঁধে ছুটে আসে ধূসর বা সাদা রঙের গাঙচিল। পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাতেই যেন তাদের যত আয়োজন। নীল আকাশে উড়ে বেড়ানো সাদা গাঙচিলের দল চারপাশকে করে তোলে আরও মোহনীয়। 

পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানিয়েই থেমে যায় না পাখিগুলো। সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার যাত্রাপথে পর্যটকদের সঙ্গ দিতে জাহাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডানা মেলে উড়তে থাকে। উড়তে উড়তে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে পানিতেই, একটু জিরিয়েই ফের সঙ্গ দিতে থাকে অতিথিদের। 

Dhaka post

পাখির এমন বন্ধুসুলভ আচরণে মুগ্ধ পর্যটকরা। নিজেদের আসন ছেড়ে জাহাজের দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাঙ্গচিলের সঙ্গে ভাববিনিময়ে মেতে ওঠে। উপহার হিসেবে চিপস, বিস্কুট, পাউরুটিসহ নানা শুকনো খাবারের টুকরো খেতে দেয় তাদের। এসব খাবার পানিতে পড়ার আগেই ছোঁ মেরে নিয়ে নেয়। পাখি আর মানুষের এমন মিতালি বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে ভ্রমণ-পিপাসুদের কাছে। পুরো ভ্রমণ যেন হয়ে ওঠে ক্লান্তিহীন ও রোমাঞ্চকর। 

নওশাদ আল সাঈম নামে এক পর্যটক বলেন, গাংচিল না থাকলে আসলে শুধু মাইলের পর মাইল সমুদ্র দেখে কিছুটা একঘেয়েমি চলে আসত। কেননা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে। তবে জাহাজ চলার সঙ্গে সঙ্গে যখন গাঙচিলগুলো উড়তে উড়তে মানুষের খুব কাছে চলে আসে এবং অনেকের হাত থেকে খাবার নেয়, এসব কিছু ভ্রমণের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

Dhaka post

অংকুর সরকার নামে আরেক পর্যটক বলেন, সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ বিষয়টি আমার মতো পর্যটকদের কাছে যেমন আত্মীক হয়ে উঠেছে তেমনই ভ্রমণের পথে গাঙচিলও হয়ে উঠেছে ভালো লাগার আরেক নিদর্শন। এ পাখি না থাকলে একটা শূন্যতা হয়তো থেকে যেত। সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য রক্ষাসহ জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকার আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই বিশ্বাস করি। 

উবায়দুল হক/এসপি

বিজ্ঞাপন