সিরাজগঞ্জে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে ডুবছে কৃষকের ধান

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

১০ মে ২০২২, ০২:৫৭ পিএম


সিরাজগঞ্জে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে ডুবছে কৃষকের ধান

একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে টানা বৃষ্টি। এমন পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কয়েক শ একর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাঠের পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতাকে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, তাড়াশ উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। তেমনিভাবে ফলনও ভালো হয়েছে। তবে এর মধ্যে পানির নিচে পড়েছে প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত যত্রতত্র পুকুর খনন ও কালভার্টের মুখগুলো বন্ধ করে নানা স্থাপনা তৈরি করাকেই দায়ী করছেন কৃষি কর্মকর্তা।

এদিকে বোরো ধান কেটে বাড়ি আনতে কৃষকের তিন গুণ পারিশ্রমিক লাগছে। তারপরও সোনালি ফসল ঘরে তুলতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। সোমবার রাতে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে মাঠে কেটে রাখা ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ভেজা ধান ঘরে তোলা ও ধান মাড়াই করে শুকাতে গিয়ে বিপদে পড়তে হচ্ছে তাদের। চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কষ্টে উৎপাদিত শত শত একর জমির ধান।

তাড়াশ উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের ঘরগ্রামের কৃষকরা জানান, সোমবার সকালে সবাই দুই থেকে তিন বিঘা করে জমির ধান কেটে জমিতেই রেখেছেন। কিন্তু সোমবার রাতের বৃষ্টিতে সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন ধান রক্ষার জন্য বিচালি (খড়) রেখেই ধান তুলতে হচ্ছে।

এমনিতেই বাজারে ধানের দাম কম। আবার বিচালি বাবদ বিঘাপ্রতি তিন-চার হাজার টাকা লোকসান হবে। এ অবস্থায় সঠিক সময়ে ধান শুকিয়ে ঘরে না তুলতে পারলে ওই ধান গবাদিপশুকে খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

ঘরগ্রামের কৃষক ইয়াসিন প্রামাণিক ও তয়জাল প্রামাণিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, জমিতে মোটামুটি ভালোই ধান হয়েছে কিন্তু জমিগুলো বিলের মাঝের দিকে হওয়ায় কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ধান প্রায়ই তলিয়ে গেছে। কিন্তু অধিক পারিশ্রমিক দিয়েও ধান কাটা শ্রমিক পাচ্ছি না। ফলে ধান জমিতেই এভাবে পড়ে আছে। এখন দ্রুত ধান কেটে না আনলে পুরো ধানই নষ্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া খড় রেখেই ধানের ওপরের অংশ কেটে আনতে হবে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার লুনা ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপজেলায় প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এরপরও প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। প্রাকৃতিক সমস্যায় আমাদের কারও কিছুই করার নেই জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টিতে যেসব বোরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে, সেসব ক্ষেতের আইল কেটে দ্রুত পানি বের করে দিতে হবে।

আগামী দুই-তিন দিন এভাবে থাকলে ধানের কোনো সমস্যা না হলেও যদি জলাবদ্ধতা সপ্তাহজুড়ে থাকে, তাহলে ধানের ক্ষতি হবে। এ ছাড়া যত্রতত্র পুকুর খনন ও কালভার্টের মুখগুলো বন্ধ করে নানা স্থাপনা তৈরি হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

শুভ কুমার ঘোষ/এনএ

Link copied