আগে টাকা ধার দিত, পরে কিডনি আদায় করে নিত

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট

১৪ মে ২০২২, ০৪:৩২ পিএম


তারা একসময় কিডনি বিক্রি করেছেন। এখন যুক্ত হয়েছেন দালাল চক্রের সঙ্গে। অসহায় ও গরিব লোকজনকে মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করে যাচ্ছেন। দালাল চক্রের এমন সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (১৪ মে) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ লাইনস ড্রিলসেডে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কালাই উপজেলার থল গ্রামের মৃত সিরাজের ছেলে মো. সাহারুল (৩৮), উলিপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন ওরফে চপল (৩১), জয়পুর বহুতী গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন (৫৪), ভেরেন্ডি গ্রামের জাহান আলমের ছেলে শাহারুল ইসলাম (৩৫), জয়পুর বহুতী গ্রামের মো. মোকাররম (৫৪), দুর্গাপুর গ্রামের মৃত বছিরউদ্দিনের ছেলে সাইদুল ফকির (৪৫) ও পাঁচবিবি উপজেলার গোড়না আবাসন এলাকার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৪০)।

তাদের মধ্যে শাহারুল ইসলাম ২০০৯ সালে, মোকাররম ২০০৬ সালে, সাইদুল ফকির ২০১৬ সালে তাদের কিডনি বিক্রি করেন। এ ছাড়া ফরহাদ হোসেন, সাদ্দামরা কিডনি বিক্রির জন্য ভারতে গেলেও তারা ভয় পেয়ে কৌশলে পালিয়ে আসেন। পরে তারা দালালির কাজ শুরু করেন।

পুলিশ সুপার মাছুম বলেন, কিডনি চক্রের দালালরা অসহায় ও গরিবদের অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে তাদের প্রথমে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার বা সুদের ওপর দেয়। কিছুদিন পর পরিকল্পনামতো টাকা ফেরত চায়। ফেরত দিতে না পারলে কিডনি বিক্রির জন্য বাধ্য করত। এ কাজে অসাধু ডাক্তার সহযোগিতা করতেন। তাদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশের ভেতরে বা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে তাদের কিডনি অপসারণ করা হতো। পরে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা শেষে হাতে এক থেকে দুই লাখ টাকা ধরিয়ে দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কালাই থানা এলাকা থেকে কয়েকজন নিখোঁজ হয়। এখন তারা কালাই এলাকার কিডনি চক্রের প্রধান দলাল কাওছার ও সাত্তারের মাধ্যমে দুবাই ও ভারতে অবস্থান করছেন। আমরা জানতে পেরেছি সাম্প্রতিককালে কালাই থানা এলাকার পাশাপাশি পাঁচবিবি থানা এলাকায়ও কিডনি বিক্রির জন্য অসহায় গরিব লোকজনকে প্রলুব্ধ করছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফারজানা হোসেন, অতিরিক্ত পুলিস সুপার (সদর) মোসফেকুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাঁচবিবি সার্কেল) ইসতিয়াক আলম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহেদ আল মামুনসহ পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জ ও পুলিশ সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, নওপাড়া, হারুঞ্জা ও বালাইট গ্রাম; মাত্রাই ইউনিয়নের উলিপুর, সাঁতার, ভাউজাপাতার, শিবসমুদ্র, অনিহার, ভেরেন্ডি, কুসুমসাড়া, ছত্রগ্রাম, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার গ্রাম; উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতি, মোহাইল, বাগইল, দুধাইল, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর ও বিনইল গ্রামসহ কয়েক গ্রামের অসহায় ও গরিব মানুষ অভাবে পড়ে অর্থের লোভে কিডনি বিক্রি করেছিল।

আজও ওই সব এলাকার লোকজন গোপনে কিডনি বিক্রি করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ ও র‍্যাব অভিযান চালিয়ে দালালদের গ্রেপ্তার করছেন।

এ পর্যন্ত দালাল চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার।

চম্পক কুমার/এনএ

Link copied