বিপ্লব কুমার স্যার আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

১৫ মে ২০২২, ০৮:৩৪ পিএম


বিপ্লব কুমার স্যার আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন

উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ইউরোপের দেশ পর্তুগালে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া রংপুরের চার নারী ফুটবলারসহ সদ্যপুষ্করিণী যুব স্পোটিং ক্লাবের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামের উপহার পাঠিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।

রোববার (১৫ মে) বিকেলে সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের নয়াপুকুর মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এসব উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রংপুরের সাবেক এই পুলিশ সুপারের পাঠানো অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ফুটবলারদের হাতে তুলে দেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব আরিফ।

রংপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালেও বিপ্লব কুমার সরকার সদ্যপুষ্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের নারী ফুটবলারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করা ছাড়াও করোনাকালে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। ঈদের আগেও ক্লাবের নারী ফুটবলারদের জন্য তিনি ঈদ উদযাপনের পোশাক পাঠিয়েছেন।

কয়েক মাস আগে রংপুরের পুলিশ সুপার পদ থেকে বদলি হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগ দেন বিপ্লব কুমার সরকার। বর্তমানে তিনি তেজগাঁও ডিভিশনের উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত আছেন।

রংপুর চাকরিকালীন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী ছাড়াও নারী ফুটবলের উন্নয়নে তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় রংপুর ছেড়ে গেলেও ভোলেননি নারী ফুটবলারদের কথা। গত ২৭ এপ্রিল সদ্যপুষ্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের নারী ফুটবলারদের জন্য ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন তিনি। সেই উপহার গ্রহণের আনন্দের রেশ না কাটতেই এবার তিনি উন্নত প্রশিক্ষণ ও ফুটবলারদের মানসিকতার উন্নয়নে দেড় লাখ টাকার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন।

পর্তুগাল যাওয়ার আগে উপহার পেয়ে নাসরিন, শাম্মী, মৌরাশী ও রেখাসহ আনন্দে উচ্ছ্বসিত সদ্যপুষ্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের সব সদস্য। প্রিয় মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলার মাঠে উপহার হাতে নিয়ে ‘ধন্যবাদ বিপ্লব স্যার’ বলার মধ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভাব-অনটনের সংসার আর দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত দিনমজুর, শ্রমিক, ভ্যানচালক ও কৃষকের পরিবার থেকে খেলতে আসা এসব ফুটবলার।

ফুটবলার নাসরিন বেগম বলেন, বিপ্লব কুমার স্যার রংপুরে থাকাকালীন আমাদের সব সময় সহযোগিতা করেছেন। আমাকেসহ দুজনের পায়ের লিগামেন্ট অপারেশন করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আমাদের ক্লাবের উন্নয়ন এবং ফুটবল খেলতে বিপ্লব কুমার স্যার আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন। তার মতো মানুষের সহযোগিতা, পরামর্শ ও ভালোবাসা আমাদের সব সময় ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে।

সদ্যপুষ্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও প্রধান প্রশিক্ষক মিলন মিয়া বলেন, লিগামেন্টের অপারেশনের অভাবে আমার ক্লাবের স্ট্রাইকার নাসরিন খেলতে পারছিল না। বিপ্লব স্যার নাসরিন ও রুমির লিগামেন্ট অপারেশনের ব্যবস্থা করেছেন। এতে গত বছর নাসরিন জাতীয় পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্স করে দলকে জিতিয়েছে। কিছুদিন আগে ৩০ জনের জন্য স্যার ঈদ উপহার পাঠিয়েছিলেন। এবার ক্লাবের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণে অত্যাধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছেন।  

সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের আজীবন দাতা সদস্য ও ময়মনসিংহের হার্ভার্ড এক্সেস ডিজিটাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান খান বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে নারী ফুটবলাররা জাগিয়েছেন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরে মেয়েরা ফুটবলে ভালো করে যাচ্ছেন। রংপুরের মেয়েদের ফুটবল সাফল্যে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের একজন সাবেক পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার। আমি সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ থেকে বিপ্লব কুমার স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তার মতো সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসেন তাহলে দেশের নারী ফুটবলাররা সামনে আরও ভালো করবে।

সরঞ্জাম বিতরণের সময় উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য বিপ্লব কুমার স্যারের পাঠানো উন্নত জার্সি, বুট, মার্কার কোন, ফাস্ট এইড, আইসবক্স, হার্ডেলসহ আধুনিক খেলার সরঞ্জাম হস্তান্তর করে আমি নিজেও আনন্দিত। স্যারের সহযোগিতার কারণে ঢাকায় স্ট্রাইকার নাসরিন ও রুমির লিগামেন্টের অপারেশন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাসরিন এখন সুস্থ এবং পর্তুগালে উন্নত প্রশিক্ষণে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছে। রুমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। শিগগির ঢাকায় রুমিরও অপারেশন করানোর ব্যবস্থা করবেন বিপ্লব স্যার। এ ছাড়া এই নারী ফুটবল দলকে এগিয়ে নিতে বিপ্লব স্যার সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বালিকা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রতিভাবান ৪০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপিতে দুই মাসব্যাপী উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে থেকে ১৬ জন খেলোয়াড়কে ইউরোপের পর্তুগাল অথবা অন্য কোনো দেশে অধিকতর উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে পাসপোর্ট-ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। সদ্যপুষ্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের ডিফেন্ডার মৌরাশী, রেখা, স্ট্রাইকার নাসরিন ও গোলকিপার শাম্মী যাচ্ছেন প্রশিক্ষণে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এনএ

Link copied